সংবাদদাতা, ঘাটাল: এক নিমেষে ধূলিসাৎ সারাজীবনের সম্বল। শুক্রবার ভোরে ঘুমন্ত বাসিন্দাদের নিয়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি তিনতলা মাটির বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় গোটা পরিবার। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রক্ষা পায় ৪টি পরিবারের প্রায় ১৬-১৮ সদস্য। এদিন ভোরে ঘটনাটি ঘটে চন্দ্রকোণা থানার মুড়াকাটায়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনের আঘাত গুরুতর। তাঁদের চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দয়াল লোহার বলেন, আমরা ওই পরিবারের পাশে রয়েছি। সরকারি ভাবে যা সহযোগিতা করা যায় তা করা হবে।
বাড়িটির মালিক পেশায় দিনমজুর ও কৃষক সিরাজুল খান। তাঁর চার ছেলে ও তাঁদের পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতেই মোট ১৮ জন সদস্য বসবাস করতেন। সিরাজুল বলেন, রাত তখন আনুমানিক ৩টা বেজে ১৫ মিনিট। বাড়ির সকলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে বাড়িটির পেছনের দিকের একাংশ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা বাড়ি। মাটির স্তূপে চাপা পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা।
আটকে পড়া সদস্যদের আর্তনাদ শুনে রাতেই ছুটে আসেন জসিমুদ্দিন খান সহ অন্য প্রতিবেশীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেওয়াল কেটে এবং জানলার শিক ভেঙে একে একে সবাইকে উদ্ধার করেন তাঁরা। অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই দুর্ঘটনায় এক নিমেষে গৃহহীন হয়ে পড়েছে সিরাজুল খানের গোটা পরিবার। বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েছে সারাজীবনের সঞ্চয়, জমির দলিল, আসবাবপত্র, চাল-ডাল এবং রোজগারের সরঞ্জাম সবকিছু। খোলা আকাশের নীচে সর্বস্বান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পরিবারটি। সিরাজুল খান কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমরা দিনমজুর। আমাদের নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। সরকার সাহায্য না করলে আর কোনো উপায় নেই।’ বাড়ির যে অংশটি এখনও বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে, তা যে কোনো মুহূর্তে ফের ধসে পড়তে পারে বলে আতঙ্কিত স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সর্বস্বান্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি তৈরি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য যাতে তাঁরা দ্রুত পান, সে বিষয়ে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের আর্জি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।