সংবাদদাতা, লালবাগ: মাঝরাতে বাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ায় দগ্ধ হয়ে তিন বালক-বালিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হল। শনিবার রাতে রানিতলা থানার বেণীপুর ভাঙনপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হল আদিল আলি(৯), সাহিল আলি(৯) ও সাজিদা খাতুন(৭)। আদিল ও সাহিল যমজ ভাই, সাজিদা তাদের বোন। এঘটনায় ওই পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে। তিন ছোট্ট ভাইবোনের আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না গ্রামের বাসিন্দারাও। ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল বলে আমাদের প্রাথমিক অনুমান। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভাঙনপাড়ার নির্মাণশ্রমিক সায়ন আলির বাড়িতে এঘটনা ঘটেছে। তিনি কয়েকমাস ধরে কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকছিলেন। তাঁর স্ত্রী সায়মা বিবি তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ভাঙনপাড়ার বাড়িতে থাকতেন। আদিল ও সাহিল বেণীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ও সাজিদা প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। খুব কষ্ট করে তিন ছেলেমেয়েকে বড় করছিলেন সায়ন ও সায়মা। এভাবে তাদের হারাতে হবে, তা তাঁরা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।
শনিবার রাতে খাওয়াদাওয়ার পর সায়মা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। মাঝরাতে হঠাৎ ঘরে আগুন লেগে যায়। ঘরের দেওয়াল পাটকাঠি দিয়ে তৈরি ছিল। সেকারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাড়িকে গ্রাস করে ফেলে। সায়মার ঘুম ভেঙে গেলে তিনি আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়ে ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। মা বেরিয়ে গেলেও তিন ছেলেমেয়ে ঘরেই থেকে যায়। খবর পেয়ে পড়শিরা এসে পৌঁছলেও ততক্ষণে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠেছে। তিন ভাইবোনকে আর ঘর থেকে বের করা যায়নি। কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দগ্ধ হয়ে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ বলেন, মাঝেমধ্যেই এই গ্রামে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতদিন আগুনে বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছিল। আগুন লেগে মানুষের মৃত্যু এর আগে হয়নি।
খবর পেয়ে রাতেই রানিতলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অরিজিৎ ঘোষ ও স্থানীয় বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পুলিশ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ভগবানগোলা-২ এর বিডিও অনির্বাণ সাহু বলেন, মর্মান্তিক ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিক ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সাহায্যের জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।