নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তবে কি এবার উলটো স্রোত? পালাবদলের পরদিন থেকে ভাঙতে শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতাসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একজোট হন জোড়াফুল প্রতীকে জিতে আসা সিংহভাগ বিধায়ক। সোমবার দেখা গেল, ঋতব্রত শিবিরে থাকা একাধিক বিধায়ক মমতাতেই তাঁদের আস্থা-ভরসা রাখছেন। তাঁরা হলেন বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান, বারুইপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিভাস সর্দার এবং মেটিয়াবুরুজের আবদুল খালেক মোল্লা। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৌসিফুর বলেন, ‘দল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক জোড়াফুল। ছবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এটা এক সূত্রে বাঁধা। মমতার ছবি না থাকলে ১০টা ভোটও পাব না। আমার নেত্রী একজনই। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ ইতিমধ্যে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে ক্ষমাও চেয়ে এসেছেন বলে খবর। এদিন বিধানসভায় তৌসিফুরের সুরেই মমতার প্রতিই আনুগত্য প্রকাশ করেছেন বারুইপুর পূর্ব ও মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, তাহলে কি ঋতব্রত শিবির নিয়ে মোহভঙ্গ হচ্ছে? হালিশহরে মমতার উপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায়ও কর্মসূচি পালিত হয়। হাজরা মোড়ে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ থেকে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারও করা হয়। এক্ষেত্রে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে বিধানসভায়! শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, পুলক রায়ের মতো মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে প্রতিবাদে শামিল হন তৌসিফুর বিভাস ও আবদুল খালেক। এই আবহে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বলেন, ‘তিনজন বিধায়ক তো সশরীরে হাজির ছিলেন আমাদের কর্মসূচিতে। ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে আরও ২৩-২৪ জন বিধায়ক যোগাযোগ করেছেন।’ যদিও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর পালটা দাবি, ‘বিভাস সর্দার ও তৌসিফুর রহমানের দায়িত্ব আমি নিতে পারব না। আবুদল খালেক মোল্লা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আমাদের সঙ্গে আছেন ৬৫ বিধায়ক।’



