Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নকল সোনার কয়েন বিক্রি করে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তারকেশ্বরের দম্পতি সহ গ্রেপ্তার ৩

সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগের সূত্রে নকল কয়েন কয়েন বিক্রি করে পাঁচ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নকল সোনার কয়েন বিক্রি করে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তারকেশ্বরের দম্পতি সহ গ্রেপ্তার ৩
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগের সূত্রে নকল কয়েন কয়েন বিক্রি করে পাঁচ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের ধরতে প্রেমের নাটক করে প্রতারিত যুবকের এক বন্ধু। তাঁর বুদ্ধিতেই পুরশুড়া থানার পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এক দম্পতি সহ তিনজন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অচিন্ত্য সামন্ত ও তার স্ত্রী রুপালি সামন্ত বাড়ি তারকেশ্বর থানার আস্তারা এলাকায়। অপর ধৃত আজিজুল মল্লিকের বাড়ি পুরশুড়ার আঁকড়ি শ্রীরামপুর এলাকায়।  অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৩৯টি নকল সোনার কয়েন ও ঘটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের বুধবার আরামবাগ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থানা এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক মঙ্গলবার পুরশুড়া থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তার ভিত্তিতে ওইদিন অভিযুক্তদের হাতেনাতে পাকড়াও করে বলে দাবি। জানা গিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে রুপালির একটি ফেসবুক আইডি থেকে তমলুকের ওই যুবকের পরিচয় হয়। সেই সূত্রে রুপালি জানায়, তার পরিচিত কাকু বাড়ি তৈরির জন্য ভিত খুঁড়তে গিয়ে সোনার কয়েন ভর্তি একটি ঘটি পেয়েছে। সেই সোনা কেনার জন্য যুবককে প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দু› দফায় সোনার কয়েন কেনেন ওই যুবক। পূর্ব মেদিনীপুরে জাতীয় সড়কের ধারে নগদে লেনদেন হয়। পরে কয়েনগুলি পরীক্ষা করলে দেখা যায় সেগুলি নকল। এরপর তিনি প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পারেননি। ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁকে ব্লক করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তমলুকের ওই যুবক ঋণ নিয়ে ওই পাঁচ লক্ষ টাকা জোগাড় করেছিলেন।  ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জুন মাসে। প্রতারিত ওই যুবক ঘটনার কথা তাঁর এক বন্ধুকে জানান। 
বুধবার তমলুকের ওই বাসিন্দা অভিযোগকারীর বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফোনে জানান, বন্ধুর কাছ থেকে ঘটনা জানার পর সামাজিক মাধ্যমে ওই আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করি। ওই মহিলার সঙ্গে প্রেমের নাটক করি। তার ভিত্তিতে আমাকেও সোনার টোপ দেয় ওই মহিলা। তারজন্য আমার কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা চায়। গোটা ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়ে রাখি। মহিলার সন্দেহ এড়াতে টেডিবিয়ার নিয়ে পুরশুড়ায় যাই। সেইসময় সাদা পোশাকে পুলিশ অভিযুক্তদের পাকড়াও করে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মহিলা সামাজিক মাধ্যমে ফেক আইডি খুলে সম্পর্ক স্থাপন করে। তার ভিত্তিতেই কম টাকায় সোনা কেনার টোপ দিয়ে প্রতারণা করেছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে আরো অনেকেই যুক্ত রয়েছে। আমরা চাই, পুলিশ ধৃতদের জেরা করে বাকি অভিযুক্তদেরও পাকড়াও করুক। তারসঙ্গে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার হোক। 
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এই প্রতারণা চক্র আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ