নয়াদিল্লি: স্কুল আছে। ক্লাসঘর আছে, রয়েছে কম্পিউটারও। কিন্তু সেগুলির অধিকাংশই নেহাত একটা বাক্সমাত্র। সচল নয়। দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। হিসাব বলছে, দেশের প্রতি চারটির মধ্যে প্রায় তিনটি স্কুলেই নেই সচল কম্পিউটার। অথচ ডিজিটাল শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে পাঁচ বছর আগেই নতুন শিক্ষানীতি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সায়েন্স এবং রোবোটিক্সের গুরুত্বের কথা বলেছিলেন। এরপর পাঁচ বছর কাটলেও সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নতি হয়নি।
২০২৫-২৬ সালে দেশে স্বীকৃত স্কুলের সংখ্যা ১৪,৬৬,৬৮২। এর মধ্যে সরকারি স্কুল ১০,০৫,২৪৫টি। ইউনিয়ন ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশনের রিপোর্ট বলছে, এই সরকারি স্কুলগুলির মধ্যে মাত্র ২,৫৬,১৬৫টি স্কুলে সচল ডেস্কটপ কম্পিউটার রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারির মধ্যে ২,১৫,৮৮৯টি স্কুলে সচল কম্পিউটার রয়েছে। বড়ো রাজ্যগুলির মধ্যে উত্তরপ্রদেশে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ২০২৫-২৬ সালের হিসাবে ওই রাজ্যে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ১,৩৭,১০৩। এর মধ্যে মাত্র ৮,৮২১টি স্কুলে সচল ডেস্কটপ রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ৯১,১৯৯টি সরকারি স্কুলের মধ্যে মাত্র ৬,৯৭২টিতে সচল কম্পিউটার রয়েছে। বিহারেও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। রাজ্যে সরকারি স্কুল রয়েছে ৭৬,৪৩৫টি। এর মধ্যে মাত্র ৭,২৯৮টি স্কুলে সচল ডেস্কটপ রয়েছে। সেই তুলনায় দক্ষিণের রাজ্যে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত। অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, কেরল, তামিলনাড়ু এবং তেলেঙ্গানা—এই পাঁচ রাজ্যে মোট সরকারি স্কুলের সংখ্যা ১,৬৩,১৮৫। এর মধ্যে ৬২,৪৭৫টি স্কুলে সচল ডেস্কটপ রয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বাদে বাকি ২৩টি রাজ্যে মোট সরকারি স্কুল রয়েছে ৮,১৮,৫৯৫টি। এর মধ্যে ১,৮৫,৯১৮টি স্কুলে সচল ডেস্কটপ রয়েছে। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অসম, অরুণাচলপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিম মিলিয়ে মাত্র ১৭.৭ শতাংশ সরকারি স্কুলে সচল ডেস্কটপ রয়েছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ছবিটা অনেকটাই আলাদা। চণ্ডীগড় এবং লাক্ষাদ্বীপের সমস্ত সরকারি স্কুলেই সচল ডেস্কটপ রয়েছে। দিল্লিতে এই হার ৯৯.৯ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে এই হার ১৮ শতাংশ। ল্যাপটপ বা নোটবুকের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আরও দুর্বল। দেশের মাত্র ১১.৭ শতাংশ সরকারি স্কুলে সচল ল্যাপটপ বা নোটবুক রয়েছে।