সংবাদদাতা, বারুইপুর: মোবাইলে জঙ্গলের ভিডিয়ো দেখে গণ্ডার, হাতি, জলহস্তী দেখার ইচ্ছা হয়েছিল তিন ভাইয়ের। তিনজনই নাবালক। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৫, ১৩ এবং ১১ বছর। পড়ে নবম, সপ্তম ও পঞ্চম শ্রেণিতে। বাড়ি বারুইপুরের মল্লিকপুরে। মাস দুয়েক ধরেই তারা পরিকল্পনা করে, জলদাপাড়ায় যেতে হবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সেই মতো বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা রওনা দেয় জলদাপাড়ার উদ্দেশ্যে। ট্রেনে ওঠে শিয়ালদহ থেকে। কিন্তু রেল পুলিশের তৎপরতায় মাঝপথেই ভেস্তে যায় তাদের যাবতীয় পরিকল্পনা। কিষানগঞ্জ স্টেশন থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ তাদের ফিরিয়ে আনে। পুলিশের ভূমিকায় খুশি পরিবার। আপাতত তিন ভাইকেই বারাকপুরের একটি হোমে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় তিন ভাই ব্যাগ গুছিয়ে, চার হাজার টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তিন ছেলেকে দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন। খোঁজাখুজি শুরু হয়। কিন্তু তাদের কোথাও পাওয়া যায়নি। ২৯ জুলাই সকালে পরিবারের সদস্যরা বারুইপুর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় এসআই শঙ্কর অধিকারীর নেতৃত্বে তদন্তকারী টিম গঠন হয়। পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ছেলেরা পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছার কথা মাঝেমাঝেই বলত। তবে তারা যে এভাবে বাড়ি ছেড়ে পালাবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তাঁরা। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ওদের পাহাড়, পশুপাখি দেখার শখ ছিল খুব। পুলিশকে এসব কথা জানানো হয়েছিল। এরপর পুলিশের টিম খোঁজ চালায় শিয়ালদহে। কারণে রাতের দিকে বেশ কিছু ট্রেন উত্তরবঙ্গের দিকে যায়। যোগাযোগ করা হয় রেল পুলিশের সঙ্গে। সর্বত্র তাদের ছবি পাঠানো হয়। এরমধ্যেই পুলিশের কাছে খবর আসে, কিষানগঞ্জ স্টেশনে তিন নাবালককে আটকে রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের সঙ্গে তাদের ছবি মিলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিষানগঞ্জের পথে রওনা দেয় পুলিশ। সেখানে গিয়ে তিন ভাইয়ের খোঁজ মেলে। তদন্তকারী অফিসার বলেন, একদিন জলদাপাড়ায় থেকে হাতি, গণ্ডার, জলহস্তী দেখে চলে আসার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তাই বাড়ি থেকে জামা, রান্নার হাঁড়ি, কাঁথা, চাদর সবই নিয়ে বেরিয়েছিল তারা। এমনকি, জঙ্গলের মধ্যে তাঁবু বানিয়ে থাকার ইচ্ছা ছিল তাদের। তার জন্য ত্রিপলও কিনেছিল তারা।