পুরী, ২৯ জুন: পুরীতে রথযাত্রার দিন পদপিষ্টের জেরে ৫০০ জন জখম হয়েছিলেন। আজ, রবিবার ভোরে ফের পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে পুরীতে। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। জখম ১০। যদিও ওড়িশার আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন জখমের সংখ্যা ৬। সূত্রের খবর, গুণ্ডিচা মন্দিরের সামনে এদিন ভোর ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। পুণ্যার্থী, ভক্তদের সমাগমে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল পুলিসের। এদিন ভোরেই রথ থেকে তুলে গুণ্ডিচা মন্দিরের অন্দরে প্রবেশ করানো হচ্ছিল জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে। তখনই রথের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়েন বহু পুণ্যার্থী। যার ফলে ঘটে পদপিষ্টের ঘটনা। পুলিস জানিয়েছে, রথযাত্রার শেষে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে গুণ্ডিচা মন্দিরে প্রবেশ করানোর যে রীতি রয়েছে তাই দেখতেই ব্যাপক ভিড় হয়।
সেই ভিড়েই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে, যার ফলে মৃত্যু হয় তিনজনের। জখম ১০। জখমদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের নাম পরিচয় জানিয়েছে পুলিস। তাঁরা হলেন- বাসন্তী সাহু(৩৬), প্রেমাকান্ত মোহান্তি(৮০) এবং প্রভাতী দাস(৪২)। তাঁরা ওড়িশার খুরদা জেলার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, গুণ্ডিচা মন্দিরের সামনে পর্যাপ্ত পুলিসি নিরাপত্তা ছিল না। সেই কারণেই ঘটেছে দুর্ঘটনাটি। এই দুর্ঘটনার তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে পুলিস। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
বিপত্তি কাটিতে গতকাল, শনিবার মাসির বাড়ি পৌঁছয় পুরীর রথ। গত শুক্রবার যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই থামিয়ে দিতে হয় জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার রথ। ভিড়ের চাপে তেমনই সিদ্ধান্ত নেয় পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষ। গতকাল, শনিবার সকালে ফের যাত্রা শুরু হয়। গতকালই তিনটি রথ পৌঁছয় গুণ্ডিচা মন্দিরে। রীতি অনুযায়ী আজ, রবিবার ভোররাতে রথ থেকে মন্দিরের অন্দরে প্রবেশ করানো হচ্ছিল জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে। তখনই ঘটে দুর্ঘটনাটি।