Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৭ দিনে তিন কমিশনার বদল আসানসোল পুরসভায়

আসানসোল পুরসভায় ৭ দিনে তিন কমিশনার বদল হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে প্রশাসনে অস্থিরতা, কী বলছে সরকার? বিস্তারিত পড়ুন।

৭ দিনে তিন কমিশনার বদল আসানসোল পুরসভায়
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল পুরসভার প্রশাসনে টালমাটাল পরিস্থিতি। সাতদিনে তিনজন পুরকমিশনার বদলি! তার উপর পুরসভার নির্বাচিত পুরবোর্ডও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই বারবার কমিশনার বদলে ধন্দে পুর আধিকারিকরা। রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ পুরসভায় পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। পুরসভারই কিছু কর্মী, আধিকারিক এই কুকর্মে যুক্ত বলেও অভিযোগ। এমন ঘুঘুর বাঁসা ভেঙে পুরসভার বকেয়া পড়ে থাকা কয়েকশো কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয় কিনা, সেদিকেই নজর সব মহলের। সূত্রের খরব, বকেয়া টাকা আদায় করতে গিয়ে পুরসভার বহু রথি-মহারথীকে চেয়ার খোয়াতে হয়েছে। এখন দেখার নতুন সরকার এই সংস্কৃতির বদল ঘটাতে পারে কিনা।

Advertisement

আবাস যোজনা থেকে নিয়ম বর্হিভুত কর মুকুব। বোর্ড মিটিং না করা থেকে বেহাল নাগরিক পরিষেবা। একাধিক অভিযোগে বর্তমান বিজেপি সরকার তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছে। অভিযোগ, একশো কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি কর ফাঁকি দিয়ে রেখেছেন এখানকার প্রভাবশালীরা। এই বিপুল টাকা পুরসভার ঘরে এলেই আর্থিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার কথা পুরসভার। প্রভাবশালীদের টাকা আদায় করতে গেলেই অদৃশ্য হাতের বাধা আসে। অগত্যা পিছিয়ে আসতে হয় পুরকর্তাদের। তাতে পুরসভার স্বার্থ জলাঞ্জলি হয়। একইভাবে পুর এলাকায় বহু কারখানার অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করে পুরসভা। ৩ বছর আগে জরিমানা ধার্য হলেও তা আদায় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ১০৬ ওয়ার্ডের বৃহৎ পুর এলাকায় কোটি কোটি টাকা হোর্ডিং কেলেঙ্কারিও হয়েছে। অভিযোগ, হোর্ডিংয়ের টাকা ঠিকাদার বকেয়া রাখলেও কঠোর পদক্ষেপ হয় না। ঘুরপথে তাঁর সহযোগী সংস্থাই আবার হোর্ডিং লাগানোর বরাত পায়। একই অভিযোগ রয়েছে আসানসোলের পার্কিংয়ের বরাত দেওয়াকে কেন্দ্র করেও। সেখানেও বিপুল টাকা অনাদায়ী। আসানসোল পুরসভার কুলটি বরোর এক কর্মী পুরসভার কর আদায় করেও তা পুরসভায় জমা করেননি। টাকা প্রায় দু’কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। তারা কানাকড়িও ফেরত আসেনি পুরসভায়। আর এই সময়ের মধ্যেই ৪০ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণা হয়। এমনকী বহু পুরনো বিলও পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষে অতি তৎপরতার সঙ্গে পাশ করা হয়েছে। বহু স্বল্প মূল্যের জিনিস অধিক মূল্য দিয়ে কেনার একাধিক অভিযোগও রয়েছে। সবমিলিয়ে আসানসোল পুরসভার পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। তার খেসারত দিচ্ছে পুর-নাগরিকদের। দু’মাসের বেশি সময় ধরে পুরসভায় কোনো প্ল্যান পাশ হচ্ছে না।
পুরসভার এইসব বেনিয়মের ফাইল নাড়াচাড়া শুরু হলেই কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ধামাচাপা পড়ে যায় দ্রুত। বহু ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকের বদলির নজিরও রয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন বেনিয়ম নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পুর কমিশনারকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তারপর থেকে যেভাবে একের পর এক পুর কমিশনারের বদলি হচ্ছে, তাতে অনেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। পুরসভার ভিতরের খবর, পুরসভায় একটি অসাধু চক্র বেআইনি কাজকর্মে অতিসক্রিয়। সেই চক্রের মাথারা এখন কিছু বিজেপি নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করতে মরিয়া। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ