নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ক্ষমতার পালাবদলের পর নিরাপত্তারক্ষী আগেই প্রত্যাহার করেছে নতুন সরকার। সেই আবহে সিউড়ির তৃণমূল পার্টি অফিসে গিয়ে চরম বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়লেন একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। আজ বুধবার বিকেলে পার্টি অফিসে ঢুকে বেধড়ক ভাঙচুর চালাল একদল উত্তেজিত জনতা। লাঠি উঁচিয়ে শাসানির মুখে পড়ে কার্যত ভয়ে সিঁটিয়ে যান কেষ্ট। একসময় যাঁর গলার স্বরে গোটা বীরভূম বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, সেই অনুব্রতকেই এদিন প্রাণভয়ে হাতজোড় করে হামলাকারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হইল।
জানা গিয়েছে, ঋতব্রতর হয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিসটি দখল করার উদ্দেশ্যেই এদিন বিকেলে সিউড়ি পৌঁছেছিলেন অনুব্রত। বছর ঘুরলে পুরভোট। সেই রণকৌশল স্থির করতে দুপুরে দলের অনেক নেতা-কর্মীকে ফোন করে ডেকেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর ডাকে সেভাবে কেউই সাড়া দেননি। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় এবং অশোক চট্টরাজ। পাশাপাশি ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী রাধাবল্লভ চট্টোপাধ্যায় (শান্ত)। আর সেই বৈঠক চলাকালীনই আচমকাই পার্টি অফিসে চড়াও হয় কয়েকজন যুবক। তৃণমূলের অভিযোগের তীর এইবার বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হাতে মোটা লাঠি নিয়ে অফিসে ঢুকেই প্রবল তাণ্ডব শুরু করা হয়। চেয়ার, টেবিল, কাঁচের জানলা, দরজা থেকে শুরু করে এসি কিছুই ভাঙচুর থেকে বাদ যায়নি এদিন। অপরদিকে অনুব্রত যে টেবিলটিতে বসেছিলেন, তাঁর ঠিক সামনেই মোটা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সেই টেবিলের কাঁচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। চোখের সামনে এই তাণ্ডব দেখে রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন ‘নিরাপত্তারক্ষীহীন’ কেষ্ট। লাঠি উঁচিয়ে কেষ্টকে চরম ভাষায় আক্রমণ করে বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা বলেন তুই কম অন্যায় করেছিস? জবাব দে! বল যে ১৫ বছরে তুই ভুল করেছিস। ক্ষুব্ধ এক ব্যক্তি চিৎকার করে ওঠেন, ‘আমি এখনও ত্রিপল ঢাকা বাড়িতে থাকি। তুই আমার জন্য কী করেছিস? তুই আবার এলি কেন?’ অতর্কিত এই হামলায় থরহরিকম্প অবস্থা হয় অনুব্রত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে হামলাকারীদের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে শুরু করেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া কেষ্ট এও বলেন যে, তিনি আগের তৃণমূল বা অভিষেককে একেবারেই পছন্দ করেন না। তাতেও অবশ্য ক্ষোভের আগুন নেভেনি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিউড়ি থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের কাছে আটক হওয়া ওই ব্যক্তিদের দাবি, অনুব্রত মণ্ডল তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চরম অত্যাচার চালিয়েছেন, তারই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, গোটা ঘটনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন ‘আতঙ্কিত’ অনুব্রত। শেষমেশ পুলিশি ঘেরাটোপে কড়া নিরাপত্তায় এলাকা ছাড়েন কেষ্ট।