নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বোমা ফেটে জখম তিন বালক। আম বাগানে পড়ে থাকা আমের সঙ্গেই বোমাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। বাসিন্দাদের আরও দাবি, কৌতূহলবশত বালকরা বোমাটি নাড়াচাড়া করতেই তা ফেটে বিপত্তি ঘটে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ইংলিশবাজার থানার কাজিগ্রাম এলাকার বাহান্ন বিঘার একটি আম বাগানে। জখম বালকদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে দ্বীপ রায় নামে একজনের চোট গুরুতর।
স্থানীয় বাসিন্দা তারক বিশ্বাস বলেন, আম বাগানের সামনেই আমার বাড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজছিলাম। হঠাৎ আম বাগানের দিক থেকে একটা বিস্ফোরণের শব্দ পাই। এরপর দেখছি আম বাগান থেকে প্রচুর ধোঁয়া উঠছে। কিছুক্ষণ পর দেখি আম বাগানের দিক থেকে তিনটি ছেলে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। দেখলাম তাদের মধ্যে একটি বাচ্চার হাতের কব্জি উড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,তিন বালক মিলে এদিন সকালে আম বাগানের মাটিতে পড়ে থাকা আম কুড়াতে গিয়েছিল। তারা প্রতিদিনই বাগানে আম কুড়াতে যায়। সকলেরই বয়স ৯-১০ বছরের মধ্যে। সেই সময়ই আম বাগানে আচমকা বোমা ফেটে একজন গুরুতর জখম হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইংলিশবাজার থানার পুলিশ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাগানেই প্রতিদিনই অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। জুয়া ও নেশার ঠেক বসে। তারাই এই বোমা মজুত করে রেখেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা সান্ত্বনা বসাক বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। কারণ আমাদের বাচ্চারাও আম বাগানে খেলতে যায়। এদিন তিন বালক একটি বোমা দেখতে পেয়ে সেটা বল ভেবে হাতে দিয়ে নাড়াচাড়া করতেই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই আম বাগানে প্রতিদিন জুয়ার ঠেক বসে। হয়ত তারাই বোমা মজুত করে রেখেছিল। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাকি দুই শিশুর শরীরে বড় কোনো চোট না লাগলেও একজনের হাতের চোট খুবই মারাত্মক। তার চিকিৎসা চলছে। ইংলিশবাজারে আমবাগানে বোমা ফাটার ঘটনার তদন্তে পুলিশ।-নিজস্ব চিত্র