Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান দক্ষিণের টিকিট নিয়ে বিজেপির তিন নেতার যুদ্ধ, বিপাকে গেরুয়া শিবির, ক্ষুব্ধ নীচুতলার কর্মীরা

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট পেতে বিজেপির তিন গোষ্ঠীর লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। তিন গোষ্ঠীর তিন নেতাই টিকিট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন

বর্ধমান দক্ষিণের টিকিট নিয়ে বিজেপির তিন নেতার যুদ্ধ, বিপাকে গেরুয়া শিবির, ক্ষুব্ধ নীচুতলার কর্মীরা
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট পেতে বিজেপির তিন গোষ্ঠীর লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। তিন গোষ্ঠীর তিন নেতাই টিকিট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিজেদের ছবি দিয়ে পোস্টার তৈরি করে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। বর্ধমান শহরে বিজেপির সংগঠন তলানিতে রয়েছে, যা নিয়ে দলেরই নীচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন মজবুত না করে টিকিটের জন্য নেতারা লড়াইয়ে নামায় কর্মীরা প্রচণ্ড হতাশ। 

Advertisement

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকিট পাওয়ার প্রতিযোগিতায় রয়েছেন এক চিকিৎসক নেতা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাজ্য নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি ছাপিয়ে তিনি প্রচার শুরু করেছেন। এক সময় ওই চিকিৎসক দলের পদেও ছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন এক প্রাক্তন সভাপতি। তিনি অবশ্য কোথাও নিজের ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপাননি। অন্য আর একজন হলেন আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতা। তিনি এক সময় ভারতীয় সেনায় কর্মরত ছিলেন। 
বিজেপির এক নেতা বলেন, আরও দু’-তিনজনের টিকিট পাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। তাঁরাও নিজেদের মতো করে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে, ওই তিন নেতা দৌড়ে বাকিদের পিছনে ফেলে দিয়েছেন। যদিও তিনজনের মধ্যেই কেউ টিকিট পাবেন, এমনটা মনে করার কারণ নেই। জেলা থেকে তিনজনের নাম গিয়েছে। এছাড়া একাধিক সমীক্ষক সংস্থাও নাম পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সব দিক বিচার করে প্রার্থী ঠিক করবেন। কারও কোনো প্রভাব কাজে আসবে না। দলের আর এক নেতা বলেন, কয়েকজন নেতা অতি আত্মবিশ্বাসী। প্রার্থী হচ্ছেন ধরে নিয়ে তাঁরা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু অতীতে দেখা গিয়েছে, যাঁরা অতি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, তাঁরা টিকিট পাননি। আগে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বজন পোষণ হতো। এবার তেমনটা হবে না। বর্ধমান শহরে লড়াকু নেতার অভাব রয়েছে। দাপিয়ে সংগঠনের কাজ করবেন এমন কেউ নেই। তাছাড়া নিজেদের মধ্যে কোন্দল রয়েছে। তাতে সংগঠন আরও পিছিয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষ তৃণমূল প্রতিটি ওয়ার্ডেই শক্তিশালী। নিজেদের মধ্যে কোথাও কোথাও দ্বন্দ্ব থাকলেও, ভোটের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। ফলে বিজেপিকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে।
যদিও বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, কে প্রার্থী হবেন, তা রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবে। দলকে জেতানোই আমাদের সবার টার্গেট। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা খোকন দাস বলেন, বিজেপি আগে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মেটাক। তারপর আমাদের সঙ্গে লড়াই করবে। শহরের মানুষ ওদের পছন্দ করে না। মানুষ উন্নয়ন দেখে তৃণমূলকে ভোট দেবে।
বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরে রথযাত্রা কর্মসূচি কার্যত ‘ফ্লপ’ হয়েছে বলেই নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে। লোক টানার জন্য কার্জনগেটে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আনা হয়েছিল। তারপরেও সভায় লোকজন হয়নি। তা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নিজেদের সংগঠনের ক্ষত মেরামত না করে নেতারা এখন টিকিট পেতে যুদ্ধে নেমেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ