Bartaman Logo
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়ঞায় কুয়ে নদীর জলে প্লাবিত হাজার হেক্টর কৃষিজমি

ব্রাহ্মণীর জল নামতে শুরু করায় খড়গ্রামে জেগে উঠছে কৃষি জমিগুলি। তবে বড়ঞা ব্লকের কয়েকটি মৌজায় শুক্রবার সকাল থেকে কুয়ে নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে।

বড়ঞায় কুয়ে নদীর জলে প্লাবিত  হাজার হেক্টর কৃষিজমি
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: ব্রাহ্মণীর জল নামতে শুরু করায় খড়গ্রামে জেগে উঠছে কৃষি জমিগুলি। তবে বড়ঞা ব্লকের কয়েকটি মৌজায় শুক্রবার সকাল থেকে কুয়ে নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে অন্তত এক হাজার হেক্টর কৃষি জমি। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যা থেকে ব্রাহ্মণীর জলে খড়গ্রাম ব্লকের ঝিল্লি পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি মৌজা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় জলস্তর এতটাই বেড়ে যায় যে, অন্তত পাঁচটি মৌজার প্রচুর পরিমাণ কৃষি জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বন্যার আতঙ্কে দুশ্চিন্তায় পড়েন কয়েক হাজার ধান ও তুঁত চাষি। তবে শুক্রবার সকাল থেকে ওই এলাকায় জল নামতে শুরু করায় চাষিরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। স্থানীয় কেলাই গ্রামের চাষি আনসার শেখ, হাসান আলি, সাদেমান আলি, খাইরুল বাসার জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণীর লিংক ক্যানেলের ট্যাংরা বাঁধ উপচে এলাকায় জল ঢোকে। তবে দু’দিন পর জল নামতে শুরু করায় তাঁদের সাময়িক চিন্তা দূর হয়েছে। ব্রাহ্মণীর ওই লিংক ক্যানেলের বাঁধের সংস্কার চাইছেন তাঁরা। এটির সংস্কার হলে বন্যার চিন্তা দূর হবে। শুক্রবার সকাল থেকে বড়ঞা ব্লকের কয়েকটি মৌজায় কুয়ে নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে। এদিন দুপুর পর্যন্ত সোনাভারুই, জাওহরি, ভরোয়া, বৈদ্যনাথপুর, মজলিসপুর, তারাপুর মৌজায় হু হু করে জল বাড়ছে বলে দাবি। ওই এলাকায় কুয়ে নদীর কোনো বাঁধ না থাকায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে সরাসরি কৃষি জমিতে জল ঢুকছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। বৈদ্যনাথপুর গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মানারুল শেখ বলেন, এলাকা প্রতিবছর বর্ষাকালে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এবারও এখনো পর্যন্ত এক হাজার হেক্টর কৃষি জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জলমগ্ন জমির পরিমাণ বাড়তেই থাকছে। যেভাবে জল ঢুকছে, তাতে রাতের মধ্যে ফরাক্কা-হলদিয়া বাদশাহি সড়কেও জল উঠে যাবে। গ্রামের নীচু এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির একতলা থেকে সামগ্রী দোতলায় তুলতে শুরু করেছেন। গবাদি পশুদেরও উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সোনাভারুই গ্রামের চাষি কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলেন, এবছর এটা নিয়ে তিনবার কৃষি জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ল। তবে এবারই জলস্তর বেশি বলে মনে হচ্ছে। এই জল কবে নামবে কে জানে। প্রত্যেক চাষি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বড়ঞা ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, গোটা বিষয়টি নজরে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত গ্রামের ভিতরে জল ঢোকার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ