


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সাঁইবাড়ির দেওয়ালে এখন আগাছা জন্মেছে। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। কিন্তু, বছরের পর বছর এত ঝড়-বৃষ্টি সামলেও মাথা উঁচু করে বাড়িটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই সেই সাঁইবাড়ি, যেখানে ১৯৭০ সালে নারকীয় হত্যালীলা চালিয়েছিল সিপিএমের হার্মাদবাহিনী। পুরো দেশ সিউড়ে উঠেছিল। তারপর দামোদর দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। ৩৪ বছরের বাম জমানা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। অনেকেই কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে এখন বামেদের খুঁজতে হলে দূরবিন লাগাতে হয়।
তাহলে সেই বামেরা গেল কোথায়? তৃণমূলের দাবি, তারাই এখন জার্সি বদল করে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছে। আগে যারা ‘লাল সেলাম’ বলত, এখন তারাই চিৎকার করে বলছে ‘জয় শ্রীরাম’। তাদের জন্যই গেরুয়া শিবিরের এত দাপাদাপি। এবারের ভোট প্রচারে তৃণমূল সিপিএমের স্বরূপ চিনিয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, সিপিএম আর বিজেপি এক। মানুষ এত তাড়াতাড়ি হার্মাদদের অত্যাচারের কথা ভুলে যায়নি। সাঁইবাড়িতে নির্মম হত্যালীলা চালিয়েই তারা থেমে থাকেনি। তারা ভাতারের এক মহিলাকে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মেরেছিল। বিরোধিতা করলে মুখের মধ্যে কইমাছ ঢুকিয়ে দেওয়া হত। এখন সিপিএম নেতারা বিজেপির সঙ্গে মিশে হুংকার ছাড়ছে। তাতে লাভ হবে না। বাংলার মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
পূর্ব বর্ধমানের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই বামেদের প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু ভাতার, মন্তেশ্বর ছাড়া কোথাও তাদের সেই সক্রিয়তা নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভাতারে সংখ্যালঘু ভোট টেনে সিপিএম বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইছে। তারা এই বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘু মহিলাকে প্রার্থী করেছে। মন্তেশ্বরেও তারা একই পন্থা নিয়েছে। কয়েক দিন আগে ভাতারে সভা করতে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জার্সি বদল করে সিপিএমের হার্মাদরা বিজেপিতে ঢুকেছে। ওদের ফিরিয়ে আনা মানে সিপিএমকে সমর্থন করা।
সিপিএম নেতা নজরুল হক অবশ্য বলছেন, বিজেপির সঙ্গে কাদের সেটিং রয়েছে, মানুষ তা ভালভাবেই জানে। এত দুর্নীতির পরেও তৃণমূলের মাথারা কেন গ্রেপ্তার হয় না, সেটাও কারও অজানা নয়। গলসির বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র বলেন, আসলে রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চাইছে। সেই কারণে শুধু সিপিএম নয়, তৃণমূলেরও বহু মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এক সময় বর্ধমান সারা রাজ্যের বাসিন্দাদের কাছে লালদুর্গ হিসাবে পরিচিত ছিল। এখানকার নেতারা আলিমুদ্দিন কন্ট্রোল করত। সেই বর্ধমানেই বামেরা নিষ্ক্রিয়। তারা কোথাও সেভাবে প্রচারই করল না। এটা অনেকের কাছেই আশ্চর্য ঠেকেছে। তারা চুপ থাকলেও বর্ধমানের সেই সাঁইবাড়ি মনে করিয়ে দিচ্ছে, সেই দিনগুলির কথা। কীভাবে ছেলেকে খুন করে মাকে রক্ত মাখানো ভাত খাওয়ানো হয়েছিল, সেকথা আজও বর্ধমান ভোলেনি।