সংবাদদাতা, বনগাঁ: পুলিসের নাকি কেস লিখতে দারুণ অনীহা! তাই নানা কেসের সমাধান করতে থানা কিছু রেট বেঁধে দিয়েছে। যেমন, বধূ নির্যাতনের অভিযোগ ‘মিটমাট’ করতে ৪০-৫০ হাজার টাকা। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তথ্য ‘চাপতে’ ১ লক্ষ। এভাবেই চলছে টেবিলে বসে ‘মৌখিক মীমাংসা’। ঠিক এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপারের দ্বারস্থ হলেন বনগাঁ আদালতের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার তাঁরা ৫ দফা দাবি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিস সুপার সুমন্ত কবিরাজের কাছে ডেপুটেশন জমা দেন। আইনজীবীদের দাবি, বনগাঁ পুলিস জেলায় ৯টি থানায় কেস প্রায় নেই বললেই চলে। থানাগুলিতে চলছে দালালরাজ। অভিযোগের ভিত্তিতে কেস লেখার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে মিটমাট করে নেওয়া হচ্ছে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের সঙ্গে। প্রত্যক্ষভাবে এই কাণ্ড চালাচ্ছেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। নেপথ্যে থেকে গোটা বিষয়টি তদারকি করছে থানার অসাধু অফিসাররা। মোটা টাকার লেনদেনে বনগাঁ পুলিস জেলা প্রায় কেস-শূন্য। লাগাতার পুলিসের এই অভ্যাসের অভিযোগ তুলে রীতিমতো সরব হলেন বনগাঁ আদালতের আইনজীবীরা। অতিরিক্ত পুলিস সুপারের কাছে আইনজীবীদের অভিযোগ, কিছু দালাল ও সিভিক ভলান্টিয়ার এই কাজ করছেন। তাঁদের সহযোগিতা করছেন, থানার অফিসারদের একাংশ। বনগাঁ ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সমীর দাস জানান, অভিযোগের ধরন অনুযায়ী ধার্য করা হয়েছে ‘মীমাংসা’র বিশেষ প্যাকেজ। বধূ নির্যাতনে ৪০-৫০ হাজার টাকা, ছোটখাটো মারামারি ১৫-২০ হাজার টাকা প্যাকেজে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ধরে গোপন ডেরায় রাখা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছে বলেও দাবি আইনজীবীদের। অভিযোগ, এক্ষেত্রে আসামির মোবাইলের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপে বাংলাদেশে ধৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আদালতের লকআপ থেকেও পুলিস আধিকারিকরা বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করছেন বলে দাবি আইনজীবীদের। এখানেই শেষ নয়, আইনজীবীদের অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা অনুযায়ী ৩৫(৩) নম্বর ধারায় নোটিস পাঠানোর ক্ষেত্রেও মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে। আইনজীবীদের দাবি, থানায় অভিযুক্ত ধরা পড়লে আদালতে হাজির করার আগেই অফিসাররা প্যাকেজে আইনজীবী ঠিক করে দিচ্ছেন। প্যাকেজের মোটা টাকা ওই আধিকারিক নিজের পকেটে পুরছেন। তিনিই অল্প টাকায় আইনজীবী ঠিক করছেন। বনগাঁ জেলা পুলিস জেলার এক কর্তা জানান, আইনজীবীরা ডেপুটেশন দিয়ে কিছু দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



