তন্ময় সাহা, কলকাতা: সবুজ-মেরুন রং। পালতোলা নৌকা। আর চিংড়ি। এ সব এক করে তৈরি করা হয়েছে ‘মোহনবাগান দুনিয়া’। মণ্ডপে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে কিছুটা অতীত, কিছুটা বর্তমান। ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক শিল্ড জয়ের সেই অমর একাদশ। তার পাশাপাশি গোষ্ঠ পাল থেকে হাল আমলের দিমিত্রি। এ ধরনের একাধিক কাট আউট মণ্ডপজুড়ে ছড়িয়ে। পাশাপাশি পুজোর দিনগুলি জায়ান্ট স্ক্রিনে চলবে মোহনবাগানের বিভিন্ন ম্যাচের ক্লিপিংস। কান কাঁপিয়ে দেবে ময়দান দুলিয়ে দেওয়া ‘গোওওল’ চিৎকার। হিন্দ সিনেমা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে থাকা এই পাড়াটিকে বাগান সমর্থকদের দূর্গ বললে অত্যুক্তি হয় না। সেই আবেগ থেকেই সেজে উঠছে ‘অমর একাদশ, গর্বের মোহনবাগান’ থিম।
শিক্ষাবিদ প্রতাপ চন্দ্র সেন, চিকিৎসক আবিরলাল মুখোপাধ্যায় থেকে গোপাল মুখোপাধ্যায় (গোপাল পাঁঠা) ছিলেন এ পাড়ারই বাসিন্দা। এখনও ভীম নাগের বংশধররা থাকেন। মধ্য কলকাতার অন্যতম বনেদি পাড়া বউবাজার ৪৭ পল্লি সম্মিলনী ক্লাব এবার মোহনবাগানকেই থিম বানিয়েছে। পুজোর সভাপতি সীমা বিদ বলেন, ‘পাড়ার অধিকাংশ মানুষ বাগান সমর্থক। অনেক বাড়িতেই সারাবছর ওড়ে মোহনবাগানের পতাকা। আইএসএল লিগ ও শিল্ড জয়ের পর সকলে এই থিম করার দাবি তোলেন। বিশেষ করে কচিকাঁচারা। আমরা সে দাবি মেনে নিয়েছি।’ ক্লাবের এক প্রবীণ সদস্য জানান, পাড়ার ইস্টবেঙ্গল সদস্যরাও হাতে হাতে সাজিয়ে তুলেছেন চির প্রতিদ্বন্দ্বী টিমকে নিয়ে তৈরি থিম। সবমিলিয়ে এই শারদোৎসবে বউবাজারে ‘জয় দুর্গা’ এবং ‘জয় মোহনবাগান’। -নিজস্ব চিত্র