সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও এবারও বোলপুরের তৃণমূলের পার্টি অফিসে প্রায় ৬০০ভরি সোনার গয়নায় সেজে উঠছেন মা কালী। পুজো উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে দলীয় কার্যালয়। শনিবার দেবীকে সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছে। আজ, রবিবার পুজোর আগে আরও কিছু গয়না পরানো হবে। তবে এবার নতুন করে গয়না বাড়ছে না বলেই শনিবার জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।
এই পার্টি অফিসে কালীপুজো ঘিরে বাড়তি কৌতূহল রয়েছে। তবে ক্ষমতায় না থাকলেও পুজোর আয়োজনে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। একসময় বীরভূম জেলার দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে টানা দু’বছর এই কালীপুজোর জৌলুসে ভাটা পড়েছিল। তিহার জেলে বন্দি থাকায় সেইসময় পুজোয় উপস্থিত থাকতে পারেননি কেষ্টবাবু। ২০২৪সালে বাড়ি ফেরার পর ফের আগের মতো পুজোর আয়োজন হয়। প্রতি বছর নিজের হাতে দেবীকে সোনার অলঙ্কারে সাজিয়ে তোলেন অনুব্রত। ২০২০সালে কালীপ্রতিমাকে ৩০০ভরির বেশি সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছিল। ২০২১সালে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৭০ভরি। সূত্রের খবর, গতবছরও প্রায় সাড়ে ৬০০ভরি সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছিল দেবীকে।
এবার রাজ্যে ক্ষমতায় নেই তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে পুজোর আয়োজন ও গয়না পরানো নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেকের। শনিবার অনুব্রতবাবু বলেন, আমি জেল থেকে আসার পরও মা-কে গয়না পরানো হয়েছে। গয়না তো লোকে দেয়। এটাই ঠাকুরের মহিমা। কিছুই জোগাড় করতে হয় না, সবাই দিয়ে দেন। এবার দল ক্ষমতায় নেই। তবুও অভাব বুঝতে দেননি কেউ। কত গয়না পরানো হবে মা-কে? কেষ্ট বলেন, যা আছে তাই পরানো হবে। পুজোয় ভোগের আয়োজন থাকছে। অনুব্রত জানান, এবারও ভোগে থাকবে বাঁধাকপির তরকারি, খিচুড়ি, ন’রকম ভাজা, পায়েস, চাটনি এবং পাঁঠার মাংস। উপোস থেকে মায়ের কাছে পুজো দেব।
অন্যদিকে, বোলপুরের বাড়িপুকুর সম্মিলনীর পুজো একসময় অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরেই সূচনা হয়েছিল। এদিন সেই পুজোর স্মৃতিচারণাও করেন তিনি। তবে এবার ওই পুজো বিজেপির দখলে। শনিবার এই পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। শ্যামাপদবাবু বলেন, এটা প্রবহমান জগৎ। কেউ কিছু করেন। আবার চলে যান। নতুন কেউ আসেন। উনি যখন স্বমহিমায় ছিলেন, পুজো করেছেন। আজ এলেও কোনো বাধা ছিল না। পুজোর ক্ষেত্রে কোনো রাজনীতি নেই, পুজো সবার। এখানে পাড়ার লোকজনই সব আয়োজন করেছেন।



