সংবাদদাতা, বনগাঁ: মঙ্গলবার পথ চলা শুরু করল তৃতীয় অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ। এদিন ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন সুব্রত ঠাকুর। আগে থেকেই দু’টি মতুয়া মহাসংঘ চলছিল সমান্তরালভাবে। একটির সংঘাধিপতি রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর। অন্যটির সংঘাধিপতি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁ লোকসভার সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। এবার হল তৃতীয় মতুলা মহাসংঘের ঘোষণা।
ঠাকুরবাড়ির অন্দরে রাজনৈতিক বিভাজন কোনও নতুন ঘটনা নয়। সেই কারণেই এতদিন একই নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরে সমান্তরালভাবে চলে আসছে দু’টি মতুয়া সংঘ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি নতুন কমিটি। যা ঠাকুরবাড়ির ক্ষমতাবৃত্তে রাজনৈতিক বিভাজন আরও উস্কে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নয়া কমিটির সংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়া ও উদ্বাস্তু মানুষের জন্য এই নতুন কমিটি গড়ে উঠেছে। আগের কমিটি ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না। তাই নতুন এই কমিটি। মতুয়াদের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও কমিটি হবে।’ দাদার তৈরি নতুন কমিটিকে অবশ্য শুভেচ্ছাই জানিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘ঠাকুরবাড়িতে যারা আছি, সবারই সংগঠন করার অধিকার আছে।’ এ বিষয়ে আরেক সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, ‘সুব্রত বাড়ির বড় হয়েও যোগ্য সম্মান পায়নি। আমি ওকে ধন্যবাদ জানাই। আমি চাই, আগামীতে মতুয়াদের জন্য সততার সাথে কাজ করুক ওরা।’
অতীতেও অবশ্য ঠাকুরবাড়িতে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিভাজন সামনে এসেছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে সুব্রত ও শান্তনুর মধ্যে মতবিরোধ সামনে এসেছিল। সেই ফাটল ক্রমশ আরও চওড়া হওয়ার কারণেই নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। সমান্তরালভাবে তিনটি মতুয়া সংঘ তৈরি হয়ে যাওয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন মতুয়ারাও। রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর। বহু মতুয়া ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। এই আবহে ঠাকুরবাড়িতে এই আকচাআকচি দেখে প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও অনেকেই ক্ষুব্ধ। যদিও তা মানতে নারাজ শান্তনুবাবু। তিনি বলেন, ‘মতুয়াদের নতুন করে আরও একজন নেতৃত্ব দেবেন। এতে কোনও সমস্যা হবে না।’ নতুন কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীতে রয়েছেন একাধিক বিজেপি বিধায়ক। আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মতুয়া ভোটব্যাংক। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ঠাকুরনগরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র