নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারুইপুরে ‘এনকাউন্টার’-এর পর ফের সামনে এল কামদুনি। ১৩ বছর আগের সেই গণধর্ষণ ও খুন মামলার ফাইল আবার খুলতে চান নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি এখনও পূর্ণ বিচার মেলেনি। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে নতুন করে তদন্তের আর্জি জানাবেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, বারুইপুর কাণ্ডের পরে কামদুনির দোষীদের ক্ষেত্রেও একই রকম কঠোর পদক্ষেপের সওয়াল তুলছে পরিবার।
২০১৩ সালের ৭ জুন। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের কামদুনিতে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহৃত হন বছর ২০-এর এক কলেজছাত্রী। অভিযোগ, তাঁকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়। পরদিন একটি ধানখেত থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। এনিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য। বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে রাস্তায় নামেন কামদুনির বাসিন্দারা। আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন গ্রামেরই টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল। ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে কামদুনি যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। মামলার তদন্তের পর ২০১৬ সালে বারাসত আদালত তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পরে কলকাতা হাইকোর্ট সেই রায়ে পরিবর্তন আনে। মৃত্যুদণ্ড খারিজ করে দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। আর তিনজন খালাস পেয়ে যায়। সেই সময় থেকেই তদন্তে গাফিলতি, আদালতে যথাযথ তথ্য পেশ না করা ও পুলিশি অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে আসছে পরিবার ও আন্দোলনকারীরা।
এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় প্রভাস মণ্ডলকে। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে কামদুনি। নির্যাতিতার এক দাদা বলেন, কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খুলে গোটা ঘটনার নতুন করে পর্যালোচনা করা হোক। সেই আবেদন নিয়েই খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা দেখা করব। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁদের ন্যায়বিচারের লড়াই শেষ হয়নি। কারণ, অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে এখনও এলাকায় ঘুরছে। বারুইপুরের ঘটনার পর রাজ্য যখন ধর্ষণ-খুনের মামলায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে তাই আমার বোনের সঙ্গে ঘটা ঘটনার ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, প্রতিবাদী মৌসুমি কয়াল বলেন, ধর্ষণ-খুনের মতো অপরাধে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কামদুনি মামলায় যদি শুরু থেকেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যেত তা হলে হয়তো রাজ্যে পরবর্তী সময়ে একের পর এক এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হত না। বারুইপুরে এনকাউন্টারের পর বাংলার মেয়েরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।