সংবাদদাতা, কল্যাণী: সত্তরোর্ধ্ব মায়ের মৃতদেহ আগলে বসে রয়েছে মেয়ে। চিকিৎসক বৃদ্ধার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করলেও, তা মানতে রাজি নয় মেয়ে। ঘটনাটি কল্যাণী শহরের বি-১২ এলাকার। মৃতের নাম রুমা দত্ত (৭২)।
সংবাদদাতা, কল্যাণী: সত্তরোর্ধ্ব মায়ের মৃতদেহ আগলে বসে রয়েছে মেয়ে। চিকিৎসক বৃদ্ধার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করলেও, তা মানতে রাজি নয় মেয়ে। ঘটনাটি কল্যাণী শহরের বি-১২ এলাকার। মৃতের নাম রুমা দত্ত (৭২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে এলাকায় দুর্গন্ধ পেয়ে ওই বাড়িতে যান কয়েকজন। খবর যায় রেড ভলান্টিয়ারদের কাছেও। এরপর তাঁরা অনেক ডাকাডাকির পর দরজা খোলেন বৃদ্ধার বছর পঞ্চাশের মেয়ে পিয়ালী। ঘরে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা মৃত অবস্থায় রয়েছে এবং তাঁর শরীরে পচন ধরেছে। খবর দেওয়া হয় কল্যাণী থানার পুলিসকে। কিন্তু বৃদ্ধাকে আগলে রাখতে চান মেয়ে। তিনি মাকে ছাড়তে রাজি হননি। পরে তাঁকে বোঝানো হয়, বৃদ্ধাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। এরপরে পুলিসের সহযোগিতায় বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলেও মায়ের মৃত্যুর কথা মানতে চায়নি মেয়ে। এরপর বৃদ্ধাকে পুনরায় নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে। সেখানেও চিকিৎসকরা একই কথা জানিয়ে দেন। কিন্তু তাঁর মেয়ে সেখানেও বলেন, ‘মায়ের কিছু হয়নি, চিকিৎসা করুন।’ ততক্ষণে খবর পেয়ে বৃদ্ধার ছেলে কলকাতা থেকে সেখানে পৌঁছন। এরপর তাঁর তৎপরতায় বৃদ্ধার দেহ সেখান থেকে পুলিস ময়নাতদন্তে পাঠায়। মঙ্গলবার বৃদ্ধার দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে বৃদ্ধার এক প্রতিবেশী বলেন, আমরা দুর্গন্ধ পেয়ে রেড ভলান্টিয়ারদের ডেকে ওই বাড়িতে যাই। ওঁরা দু’জন একাই থাকতেন। মায়ের পেনশনে সংসার চলত। দেখে মনে হচ্ছিল, অন্তত একদিন হয়ে গিয়েছে মারা গিয়েছে। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মেয়ের মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। মৃতার ছেলে এব্যাপারে কিছু বলতে চাননি।