


নয়াদিল্লি: বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হয়েছিলেন ওড়িশার বালেশ্বরের কলেজ পড়ুয়া। এবার গ্রেটার নয়ডার বেসরকারি সারদা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মৃত গুরুগ্রামের বাসিন্দা জ্যোতি শর্মা সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেন্টাল সার্জারির স্নাতক (ব্যাচেলার অব ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস) স্তরের পড়ুয়া ছিলেন। শুক্রবার রাতে তাঁর হস্টেলের ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। জ্যোতির হস্টেলের ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও মিলেছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মানসিক হেনস্তার অভিযোগ জানিয়েছেন আত্মঘাতী পড়ুয়া। তার ভিত্তিতে গৌতম বুদ্ধ নগরের নলেজ পার্ক থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিস।
তদন্তে নেমে মহিন্দ্রা ও শেরি নামে দুই অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিডিএস পড়ুয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তুমুল বিক্ষোভ দেখান অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরা। হাজির ছিল মৃতার পরিবারের সদস্যরাও। পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। এই আবহে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, পড়ুয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিসকে সমস্ত রকম তথ্য দিয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে তারা। অভিযুক্ত দুই অধ্যাপককেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
সুইসাইড নোটে জ্যোতি লিখেছেন, ‘ওঁরা জেলে যাক। ওই দু’জন আমাকে মানসিক অত্যাচার করেছেন। হেনস্তা করেছেন। এজন্য দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে রয়েছি। আমি চাই, ওদের শাস্তি হোক। এভাবে আর বেঁচে থাকতে পারছি না। এভাবে বেঁচে থাকা যায় না। আমি দুঃখিত...।’ গ্রেটার নয়ডা পুলিসের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার সুধীর কুমার জানিয়েছেন, দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না।