দেবজ্যোতি সাহা, তুফানগঞ্জ: আধুনিক থিমের জাঁকজমক আর আলোর রোশনাইয়ের যুগেও আজও ফিকে হয়ে যায়নি তুফানগঞ্জ মহকুমার শতাব্দী প্রাচীন সাবেকি পুজো। মহকুমা তো বটেই কোচবিহার জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম রানিরহাট বাজারের আদি বারোয়ারি দেবীবাড়ির পুজো। ঐতিহ্যমণ্ডিত এই পুজো এবার ১৪০ বছরে পদার্পণ করল। তুফানগঞ্জ শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রানিরহাট বাজারে স্থায়ী পাকা মণ্ডপে প্রতি বছরের মতো এবারও গভীর নিষ্ঠা ও সাবেকিয়ানার সঙ্গে পুজোর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, এক সময় এই পুজো ফুলবাড়ি বন্দরের পুজো হিসেবেই সমাধিক পরিচিত ছিল। মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই অত্যন্ত ছোট পরিসরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল, যা আজ মহকুমার একটি প্রধান আবেগ ও মিলন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
এই পুজোর মূল আকর্ষণ হল এর প্রাচীন ও কঠোর শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠান। সমস্ত নিয়ম মেনে পুজো সম্পন্ন করতে এখানে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও রায়ডাক সহ মোট ১১টি নদীঘাটের জল সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি পুজোর উপচারের বিশেষ তালিকায় থাকে ১০৮টি পদ্মফুল, সাত রকমের ভিন্ন মাটি এবং বিভিন্ন ধরনের পবিত্র পাথর। প্রাচীন এই রীতিনীতি ও দেবী দর্শনের টানে প্রতি বছরই সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত মণ্ডপ প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পুজো কমিটির সম্পাদক মহান সরকার বলেন, আমাদের পুজো মণ্ডপে তেমন কোনো আধুনিক চাকচিক্য বা চোখ ধাঁধানো থিমের মণ্ডপসজ্জা না থাকলেও, এই শতাব্দী প্রাচীন পুজোকে ঘিরে তুফানগঞ্জবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।



