নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বেন্টলির ‘স্পিড সিক্স’ মডেলের দু’টি ভিন্টেজ গাড়িতে চেপে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছেন ইংল্যান্ডের রবার্ট উইলকিনসন ও জন ওয়ালটন। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে দু'জন ভারত সফরে এসেছেন। সেই বিশ্বভ্রমণের যাত্রাপথে এবার জায়গা করে নিল জঙ্গলমহলের আদিবাসী গ্রাম। আদিবাসী সংস্কৃতি ও লোকনৃত্যে মুগ্ধ দুই ব্রিটিশ পর্যটক।
ব্রিটিশ রবার্ট ও জন দীর্ঘদিন ধরে অটোমোবাইল শিল্পে আমদানি করা গাড়ি বিক্রির কাজে যুক্ত ছিলেন। একসময় কর্মক্ষেত্রে ছিলেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই সম্পর্ক। ষাট বছর পেরিয়ে এখন তাঁরা বন্ধু ও সহযাত্রী। নিজেদের ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালের দু’টি ভিন্টেজ গাড়িতে চেপে তাঁরা বিশ্ব ভ্রমণ করছেন। আমেরিকার লাস ভেগাসের ঝলমলে শহর, থেকে আলাস্কার হিমশীতল প্রান্তর, আন্দিজ পর্বতমালা, আতাকামা মরুভূমি, বলিভিয়ার লবণাক্ত সমভূমির দুর্গম পথ পেরিয়ে তাঁদের বেন্টলি ঝাড়গ্রামের আদিবাসী গ্রামে এসে পৌঁছেছে। রবিবার সকালে কলকাতা থেকে দু’টি ভিন্টজ বেন্টলি গাড়িতে চেপে দু'জনে ঝাড়গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন । সকাল ১১টা নাগাদ নেদাবহড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পিয়ালগেড়িয়া গ্রামের এসে পৌঁছান। ভিন্টেজ গাড়ি দু’টির সঙ্গে ছিল একটি ক্যারাভানও। আদিবাসী রীতি মেনে গ্রামবাসীরা তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। স্থানীয় শিল্পীরা ধামসা-মাদল বাজিয়ে দং ও লাংড়ে নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁদের মাটির কাপে চা ও শালপাতায় বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। শিল্পীদের কাছ থেকে মাদল বাজানো শেখার চেষ্টাও করেন রবার্ট। এরপর গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলও ঘুরে দেখেন তাঁরা। আদিবাসী গ্রামজীবন, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি লাংড়ে ও দং নাচের ছন্দে মুগ্ধ হন দুই পর্যটক। জয়ন্তী মুর্মু বলেন, দুই সাহেব আমাদের আদিবাসী নৃত্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন জেনে ভালো লাগছে। দোভাষীর মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের ভালোলাগার কথা জানান। আমার সঙ্গে ছবিও তোলেন। জন ওয়ালটন বলেন, ভিন্টেজ গাড়ি নিয়ে দুই বন্ধু মিলে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছি। দু’ দিন আগে লন্ডন থেকে কলকাতায় এসেছি। কলকাতা থেকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে ভিন্টেজ গাড়ি নিয়ে দিল্লি পৌঁছব। এখানে আসার আগে জঙ্গলমহলের হাতির কথা শুনেছি। গ্রামটি খুব সুন্দর। গ্রামবাসীদের আতিথেয়তায় খুব খুশি হয়েছি। এখানকার সংস্কৃতি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। গ্রামের বাসিন্দা ভাগু মান্ডি বলেন, এমন গাড়ি আগে দেখিনি। স্থানীয় শিল্পীদের নাচও দেখেন দুই বিদেশি। গ্ৰাম ঘুরে দেখেন। ভালো লাগছে। ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজম সংস্থার কর্ণধার সুমিত দত্ত বলেন, বিদেশি পর্যটকরা ঝাড়গ্রামে আসেন। কিন্তু ষাটোর্ধ্ব দুই ব্রিটিশ নাগরিকের একশো বছরের পুরনো ভিন্টেজ গাড়িতে করে ঝাড়গ্রামে আসা আমাদের কাছে বাড়তি পাওনা। ভারতের একটি ভ্রমণ সংস্থা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। ব্রিটিশ দুই পর্যটককে ঝাড়গ্রামের জঙ্গল ও এখানকার মানুষের সংস্কৃতি দেখানোর কথা বলা হয়েছিল। দুই পর্যটক এখানে এসে আপ্লুত হয়েছেন। রাজ্য সরকার পর্যটনের প্রসারে উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে ঝাড়গ্রাম জায়গা করে নিক। -নিজস্ব চিত্র



