নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে নয়া উদ্যোগ রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার। চারটি নতুন থানা তৈরির জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে এই পুলিশ জেলা। যার প্রস্তাব গিয়েছে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে। আগামীতে রাজ্য থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে, নতুন থানা রূপে সেগুলি আত্মপ্রকাশ করবে। এনিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশস্তরে ফাইল আদানপ্রদান শুরু হয়েছে। পরিকল্পনার তালিকায় থাকা নতুন থানাগুলি হল মহারাজা থানা, দুর্গাপুর থানা, রসাখোয়া ও রাধিকাপুর থানা।
উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, এক একটি থানা বিশাল এলাকাজুড়ে হওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পুলিশ পৌঁছাতে দেরি হয়। এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় বাহিনীর সংখ্যা জেলায় কম। এই পরিস্থিতিতে আকছাড় ঘটে যাওয়া মারামারি, খুন, চুরি, ডাকাতি সহ গুরুতর অপরাধের ঘটনায় পুলিশকে বাড়তি চাপ নিতে হয়। এজন্যই নতুন থানা তৈরির পরিকল্পনা।
রায়গঞ্জ থানা এলাকার পরিধি বর্তমানে ৪০০ বর্গ কিমিরও বেশি। বিশালাকার এই এলাকায় নজরদারির জন্য মহারাজায় নতুন থানা তৈরির প্রস্তাব গিয়েছে। একইভাবে ইটাহার থানার অধীন ৩৫০ বর্গ কিমির বেশি এলাকা। তাই ইটাহার থানা এলাকা ভেঙে দুর্গাপুর থানা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সীমান্ত ও একেবারে প্রান্তিক এলাকা হিসাবে কালিয়াগঞ্জ থানা এলাকা ভেঙে, রাধিকাপুর থানা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কালিয়াগঞ্জ থানার অধীনে অন্তত রয়েছে প্রায় ৩০০ বর্গ কিমি এলাকা। একইসঙ্গে বিহার সীমান্তবর্তী করণদিঘি থানার অধীন ৩৮৮ বর্গ কিমি এলাকা। এই থানা এলাকাকে বিভাজন করে রসাখোয়া থানা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, থানা এলাকার পরিধি কমলে যেকোনো ঘটনায় পুলিশ আরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারবে। সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। ইতিমধ্যে এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছাতে অত্যাধুনিক গাড়ি ও বাইক দেওয়ার উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন। আগামীতে নতুন থানা তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার বর্তমানে পাঁচটি থানা বেড়ে হবে ন’টি। এছাড়াও সাইবার ক্রাইম থানা, মহিলা থানা ও কয়েকটি ফাঁড়ি ও পুলিশ ক্যাম্প তো রয়েইছে।



