নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য দলেরই রাজ্যসভা সাংসদ কোচবিহারের অনন্ত মহারাজের! নিশানায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। শনিবার উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বৈঠকে ডাক না পেয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘উত্তরবঙ্গ সহ গোটা রাজ্যে নিয়ে এলাম বিজেপিকে। এখন ওরা কুত্তাকে পোছে, আমাকে পোছে না।’ তবে এখানেই থেমে না থেকে অনন্ত মহাত্মা গান্ধী ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। যা নিয়ে স্বভাবতই চরম অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
কোচবিহার তো বটেই, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক বিতর্কিত চরিত্র নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। ‘গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন’-এর নেতা হলেও তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছে বিজেপি। এদিন বিজেপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্বল হয়েছি বলেই ওরা সংবিধান মানছে না। কোচবিহারের ভারতভুক্তির চুক্তিও মানছে না। এ ব্যাপারে কাকে বলব? সব সরকারই সমান। আমি এক কথা বলি তো ওরা অন্য কথা বলে।’ সাংসদের ওই বক্তব্যের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ভাইরাল (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রবিবার তাঁকে একাধিকবার ফোন ও এসএমএস করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, ‘উনি কি বলেছেন, তা জানা নেই। তবে ওঁকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিই। তাই উনি আমাদের দলের এমপি।’ অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে আমন্ত্রিতদের তালিকা কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করেছিল। আমিও ডাক পাইনি। উনি কী বলেছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।’
মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে অনন্তের আপত্তিকর মন্তব্যেও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী আর নেহরুর আন্দোলনে নাকি দেশ স্বাধীন হয়েছে! তা হলে অন্য রাষ্ট্র স্বাধীন হল কী করে? আমাদের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুর গোটা পৃথিবীকে স্বাধীন করেছেন। তাঁকে ভারতসম্রাট করলে হিন্দুস্থান, পাকিস্তান হত না। আজাদ হিন্দ ফৌজ আসলে ব্রিটিশের সৈন্য। জার্মানি তাদের বন্দি করেছিল। নেতাজি ওই সৈন্য বাহিনীর অপব্যবহার করেছেন।’ এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি দীপক সরকার বলেন, ‘উনি বিজেপিতে পাত্তা পাচ্ছেন না। তাই নেতাজির বিরুদ্ধে আবোল-তাবোল মন্তব্য করে নিজের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।’ বিজেপির আনন্দময়বাবু বলেন, ‘নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য না করলেই পারতেন উনি।’