সংবাদদাতা, কান্দি: বড়ঞা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বাজিমাত করতে চলেছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থীও এই কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হওয়ার দাবি করেছেন।
সংবাদদাতা, কান্দি: বড়ঞা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বাজিমাত করতে চলেছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থীও এই কেন্দ্রে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হওয়ার দাবি করেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, কয়েকমাস আগেও বড়ঞা কেন্দ্রে তৃণমূলের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। বহু বুথে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তার উপর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিদায়ী বিদায়ী বিধায়কের জেলে যাওয়ার ঘটনারও প্রভাব ছিল। অপরদিকে বড়ঞা ব্লকে ৮০টির বেশি পঞ্চায়েত আসন পাওয়ায় বিজেপির অ্যাডভান্টেজ ছিল।
গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অমিয়কুমার দাস ভোট পেয়েছিলেন ৭৯ হাজার ১৪১টি। তৃণমূলের জীবনকৃষ্ণ সাহা তাঁর থেকে ২ হাজার ৭৪৯টি ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন। কাজেই এবারের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে বলেই ধরণা সবার।
ভোটদানের পরেই তৃণমূল ও বিজেপির পক্ষ থেকে দলের বুথ সভাপতিদের নিয়ে চুলচেরা হিসেব শুরু হয়েছে। তাতে দু’ পক্ষই জয়ের আশা করছেন। তবে তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা রজক অনেকটাই এগিয়ে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তার কারণ, তৃণমল প্রার্থী এর আগে কংগ্রেসের হয়ে এই কেন্দ্র থেকে দু’ বার জয়ী হয়েছিলেন। ফলে কংগ্রেসের কিছু ভোট তৃণমূলে সুইং করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিজেপির প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মী এবারে সেভাবে ভোটে নামেনি। এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে যুবসাথীর মতো প্রকল্পগুলি তৃণমূলকে এগিয়ে রেখেছে।
তবে ভোটের আগে কেন্দ্র সরকারের বাঙালি বঞ্চনা ও এসআইআর দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে বলে তৃণমূলের দাবি। বড়ঞা ব্লক উত্তর তৃণমূল সভাপতি গোলাম মুর্শিদ বলেন, এবারের ভোটে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আমরা প্রচারে নেমেছিলাম। তবে কেন্দ্রের বাঙালিদের প্রতি বঞ্চনা ও এসআইআর নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাসিন্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল। এসআইআর দুর্ভোগ নিয়ে সাধারণ মানুষ বিজেপির প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। আর আমাদের বুথস্তরের কর্মীদের অন্তোষ ভোটের আগেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় একই বক্তব্য দলের দক্ষিণ ব্লক সভাপতি মাহে আলমের।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১৩টি পঞ্চায়েত নিয়ে এই বিধানসভা গঠিত। এর মধ্যে বিপ্রশেখর, কুরুননুরুন, সাবলপুর ও বড়ঞা ১ পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি লিড পেতে পারে। বাকি পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে খোরজুনা, কুলি, সুন্দরপুর, পঞ্চায়েতে ব্যাপকভাবে লিড পাবেন তৃণমূল প্রার্থী। অবশিষ্ট পঞ্চায়েতগুলিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও সামান্য এগিয়ে থাকবেন তৃণমূল প্রার্থী।
তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা রজক বলেন, অল্প মার্জিনে হলেও এই কেন্দ্রে আমরা জিতব, এটুকু বলতে পারি। উল্টোদিকে বিজেপি প্রার্থী সুখেনকুমার বাগদি বলেন, ভোটের হিসেব নিকেশের কথা জনসমক্ষে বলা যায় না। তবে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে আমার জয় নিশ্চিত।