


মোরাদাবাদ: ‘মা, বাড়ি চলো। তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।’ মায়ের অফিসে গিয়ে একথাই বলেছিল ইঞ্জিনিয়ার ছেলে। খুব একটা অবাক হননি প্রৌঢ়া নীলিমা দেবী। ছেলের সঙ্গে বাড়ি ফিরে আসেন। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই আঁতকে ওঠেন ওই মহিলা। পড়ে রয়েছে মেয়ে হিমাংসিকার নিথর দেহ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। তা দেখে চিৎকার করলে মায়ের উপরও হামলা চালায় হার্দিক নামে ওই যুবক। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে গত সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে ৮৪ বার কুপিয়ে বোনকে হত্যা করে হার্দিক।
নীলিমা দেবীর যমজ সন্তান হিমাংসিকা ও হার্দিক। তাঁরা দু’জনেই ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসূত্রে গুরুগ্রামে থাকতেন। চাকরির সঙ্গে সঙ্গে এমবিএ করছিলেন হিমাংসিকা। যদিও হার্দিক বছর দেড়েক আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে বসে থাকতেন। কেরিয়ার ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে হামেশাই দুই ভাইবোনের ঝগড়া হতো। গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল নিয়ে বসে
থাকত হার্দিক।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুনের এক মুসলিম মহিলার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ হয়েছিল। ক্রমেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠছিল। ওই মহিলাকে বিয়ে করতেও চেয়েছিলেন হার্দিক। এই নিয়ে মা ও বোনের সঙ্গে কয়েকবার বচসায় জড়িয়েছিল ওই তরুণ। তাঁকে কেরিয়ারে মন দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহেও একই বিষয় নিয়ে দুই ভাইবোনের মধ্যেই ঝগড়া শুরু হয়। রেগে গিয়ে সবজি কাটার ছুরি নিয়ে বোনের উপর হামলা
করে হার্দিক।
ময়নাতদন্তে হিমাংসিকার দেহে ৮৪টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ইতিমধ্যেই হার্দিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, কেরিয়ার নিয়ে চাপ ও প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলতেন মা ও বোন। সেই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তার জেরেই ওই ঘটনা।