নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সসম্মানে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। তাঁর সুরক্ষা নিয়ে যেন কোনো টালবাহানা না হয়। বুধবার গভীর রাতে তৃণমূলের একাংশ অভিযোগ করেছিল, মমতার অনুমতি না নিয়েই তাঁর দীর্ঘদিনের পিএসওদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই অধীরবাবু এই মন্তব্য করেন।
মমতার সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করলেও দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূলকে এদিনও বিঁধতে ছাড়েননি কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা। এদিন ফের তিনি বহরমপুর পুরসভায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। সেইসঙ্গে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জন্য ওই দলের তহবিলের টাকার বখরা নিয়ে ঝামেলাকে দায়ী করেন। তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারই এখবর প্রকাশ্যে এসেছে।
এদিন অধীরবাবু বলেন, তৃণমূল একটি আঞ্চলিক দল। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌলতে সেই দলে টাকার কোনো অভাব ছিল না। আমরা সবাই জানি, বিজেপির হাজার হাজার কোটি টাকা আছে। কর্পোরেট জগত বিজেপিকে টাকা দেয়। কিন্তু একটি আঞ্চলিক দলের কাছে এত টাকা কোথা থেকে এল, সেটা তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। অধীরবাবু বলেন, ‘এই টাকার মোহে তৃণমূল নেতাদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। টাকার মালিক কে হবে, সেই নিয়ে ওদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়েছে।’
তবে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের নৈতিকতা নিয়েও বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নৈতিকতা বলে একটি বিষয় আছে। এখন যাঁরা তৃণমূলের অন্দরে থেকেই নিজেদের বিদ্রোহী বলে ঘোষণা করছেন, তাঁরা কিন্তু মমতা দিদির নাম ভাঙিয়েই জোড়াফুল প্রতীকে জিতে এসেছেন। ওঁরা তৃণমূলে থেকে বিদ্রোহ না করে একবার পদত্যাগ করে নিজের ক্ষমতায় জিতে দেখান।
তিনি বলেন, বিগত দিনে তৃণমূল সরকার একইভাবে কংগ্রেসের বিধায়কদের ভাঙিয়েছিল। এখন বিজেপি তৃণমূলকে ভাঙাচ্ছে। দু’টি ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক নীতিবোধের অধঃপতন ঘটছে। যে কেউ দলত্যাগ করে অন্য দলে যেতেই পারেন। কিন্তু সেই দল ও প্রতীক ছাড়া নিজের ক্ষমতায় জিতে দেখানো প্রয়োজন। তবেই তিনি প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হয়ে উঠবেন।
অধীরবাবু এদিন ফের তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বাংলায় এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, যেখানে তৃণমূল লুট, দুর্নীতি ও ডাকাতি করেনি। মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত পুরসভায় এটা হয়েছে। বহরমপুর পুরসভার এক নেতার এখানে টাকা রাখার সুযোগ ছিল না বলে কোটি কোটি টাকা দুবাইতে গিয়েছে। অথচ বিজেপি নেতারা কান্দি ও বহরমপুর পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে চুপ করে রয়েছেন। এসব জায়গায় চুক্তিভিত্তিক কর্মীর নামে তৃণমূল নেতারা রোজগার করেছেন। এখন শুধু তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে ডিম ছুড়ে খবর করায় কোনো বাহাদুরি নেই।