


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীতের শহরের দুপুরবেলা মজার ছলে বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হল পড়ুয়ারা। আমাদের চারপাশে যা-কিছু শব্দ শোনা যায়, সেই প্রতিটা শব্দের পিছনে রয়েছে বিজ্ঞান। সেইসব শব্দের তরঙ্গ, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পড়ুয়াদের সামনে হাতেকলমে দেখানো হল বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে (বিআইটিএম)। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই ‘উইন্টার ফেস্ট’ চলবে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ফোলানো বেলুনের গায়ে হাত বোলালে শব্দ হয় না তো। কিন্তু হাত যদি একটু ভেজা থাকে, তারপর যদি হাত বোলানো হয় তাহলেই শব্দ হয়। কীভাবে? এর পিছনে রয়েছে বিজ্ঞান। ধরা যাক, স্টেশনে দাঁড়িয়ে দূর থেকে যখন ট্রেন আসে, শব্দও ক্রমে কানের সামনে জোরালো হতে থাকে। এর পিছনেও রয়েছে বিজ্ঞান। বিআইটিএম এই কর্মকাণ্ডের নাম দিয়েছে ‘দ্য সাউন্ড অব সায়েন্স’ বা ‘বিজ্ঞানের আওয়াজ’। বিআইটিএমের আধিকারিক তরুণ দাস এই সবটাই খুদে পড়ুয়াদের হাতেকলমে শেখালেন। ডিজিটাল পটকা ফাটিয়ে দেখিয়েও দিলেন শব্দ সহ্যসীমা অতিক্রম করছে কি না।
তরুণবাবু বলছিলেন, ‘যেহেতু খোলা আকাশের নীচে দেখানো হচ্ছে, তাই পড়ুয়াদের আগ্রহের জন্য নতুন কিছু দেখানোর চেষ্টা করছি। একটা সাবান জল নিয়ে এলপিজি গ্যাস দিলাম। সেখানে আগুন জ্বলছে। সেখানেই অক্সিজেন দিলে জোরালো আওয়াজ হয়। আসলে আমরা কম্পনের আওয়াজ পেলাম। শব্দের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য বাড়লে আমরা শব্দ কম শুনি। আর কমলে আওয়াজ বেশি শুনি। এটাই ডপলার এফেক্ট। একটি মোবাইলে গান চালিয়ে আমরা মাথার উপর ঘোরাচ্ছি। তার ফলে শব্দ কখনও আস্তে হচ্ছে, কখনও জোরে।’ এদিন দেখা যায়, পড়ুয়ারাও উত্সাহিত হয়ে নিজেরাই এগিয়ে আসছে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগুলোয় অংশগ্রহণও করছে। আপাতত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই সায়েন্স শো করা হবে বলেই জানানো হয়েছে। তবে চাহিদা থাকলে আগামী দিনে দিন আরও বাড়ানো হবে। নিজস্ব চিত্র