সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: পুজোর মুখে যেখানে নতুন শাড়ির চাহিদা ঘিরে ব্যস্ত থাকার কথা তাঁতিদের সেখানে কার্যত নিস্তব্ধ গঙ্গারামপুরের তাঁতপাড়া। ঘরে ঘরে আর শোনা যাচ্ছে না তাঁত বোনার চেনা শব্দ। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে না পারা, বিক্রির নির্দিষ্ট পরিসর না থাকা ও কাঁচামালের জোগানে ঘাটতির জেরে জেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। একের পর এক তাঁত বন্ধ করে বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন বহু তাঁতি পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, বছর পাঁচেক আগেও গঙ্গারামপুরের বোরডাঙ্গি, বসাকপাড়া, ঠেঙ্গাপাড়া, কোরিয়াল, শুকদেবপুর ও জালালপুর এলাকায় বহু বাড়িতে হ্যান্ডলুম ও সেমি হ্যান্ডলুম চালু ছিল। কয়েকজন তাঁতি বাড়িতে কারখানা গড়ে ৪০-৫০টি পর্যন্ত লুম বসিয়ে শিল্পীদের দিয়ে সুতির শাড়ি, হানিকম্ব গামছা সহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ছবিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। পুজোর মরশুমে অধিকাংশ তাঁত এখন বন্ধ।
তাঁতিদের অভিযোগ, ঠেঙ্গাপাড়ায় টেক্সটাইল হাব তৈরি হলেও তাঁতশিল্পীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি। উন্নতমানের সুতো, রং ও নতুন ডিজাইনের পর্যাপ্ত জোগান মেলেনি। হস্তশিল্প দপ্তরের উদ্যোগে তন্তুজের কমন ফেসিলিটি সেন্টারের মাধ্যমে জেলা ও বাংলার শাড়ির শোরুম চালুর কথা থাকলেও সেটি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, তাঁতিদের পাশে দাঁড়িয়ে বাজার তৈরি, প্রশিক্ষণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ধীরে ধীরে এই শিল্প পিছিয়ে পড়ছে।
এর পাশাপাশি সরকারি ভাবে বাংলাদেশ, সুরাটের সস্তা ও বিভিন্ন নকশার শাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় স্থানীয় তাঁতিরা পিছিয়ে পড়ছেন বলে দাবি। এক সময় পুজোর মরশুমে গঙ্গারামপুরের তৈরি শাড়ি শান্তিপুর ও কলকাতার বাজারে যেত। এখন সেই বাজার অনেকটাই হারিয়েছে। ফলে অনেকে পুরনো তাঁত বিক্রি করে অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন।
তাঁতি প্রকাশ সরকার বলেন, আমাদের কারখানায় একসময় ৫০টি হ্যান্ডলুম চলত। পুজোর আগে কাজ গুটিয়ে দিয়েছি। কাপড় তৈরি করে বিক্রির জায়গা নেই। উন্নতমানের সুতো সহজে পাওয়া যায় না। বাজারে প্রতিযোগিতা এতটাই বেড়েছে যে, উৎপাদন করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে আমাদের শাড়ি শান্তিপুর ও কলকাতায় যেত, এখন সেই দিন অতীত। বসাকপাড়ার তাঁতি নিমাই বসাক বলেন, গঙ্গারামপুরে এখন তাঁত বলতে কার্যত কিছু নেই। পুজোর সময়ও অর্ডার নেই, কাজ নেই। দপ্তর থাকলেও তাঁতিদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এভাবে চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



