সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রোগীর একই পরীক্ষার জন্য চারবার রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটিরও রিপোর্ট ওয়ার্ডে আসেনি। অভিযোগ, সেই সুযোগে রোগীর পরিবারের লোকজনকে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে আনার জন্য পরোক্ষভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমন একাধিক অভিযোগকে ঘিরে দানা বেঁধেছে দালালচক্রের সক্রিয়তা। অভিযোগের তির হাসপাতালের একাংশ জুনিয়র চিকিৎসক, ল্যাবকর্মী ও অন্যান্য কর্মীদের দিকে। রাজগঞ্জের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম গত সপ্তাহে তাঁর মাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিমেল মেডিসিন-১ ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তাঁর অভিযোগ, মায়ের রক্তের নমুনা চারবার নেওয়ার পরও রিপোর্ট আসেনি। নার্সদের অভিযোগ জানালে গত বৃহস্পতিবার ফের মায়ের রক্তের নমুনা নেওয়া হয় একই পরীক্ষার জন্য। এখনও চিকিৎসাই শুরু হয়নি। এমআরআই’ও করানো যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য পরোক্ষভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যএক রোগীর পরিজনের অভিযোগ, হাসপাতালে আত্মীয়কে ভর্তি করার পরই এক জুনিয়র চিকিৎসক সাদা কাগজে একগুচ্ছ রক্ত পরীক্ষার নাম লিখে দেন। নমুনা সংগ্রহের পর তাঁকে হাসপাতালের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা হয়। এটা নিয়ম বিরুদ্ধ।
আবার জরুরি ভিত্তিতে ডায়ালিসিস করানোর জন্য সুপারের সুপারিশ নিয়ে ওয়ার্ডে যাওয়া এক রোগীর পরিজনকে সম্প্রতি এক জুনিয়র চিকিৎসকের দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেই রোগীর পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক দুর্ব্যবহার করে তাঁদের বলেন, ‘সুপারকে বলুন সুপারিশ না করে একটা নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন এনে দিতে’। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের আশঙ্কা, হাসপাতালের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগারের রিপোর্ট পেতে দেরি হলে রোগীর পরিবারের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেসরকারি ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত কোনো অসাধু চক্র রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে প্রভাবিত করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে এই অভিযোগের পিছনে কোনো সংগঠিত চক্র থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল। হাসপাতালের সুপার ডাক্তার কৌশিক ঈশ্বর বলেন, এমন কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী তদন্ত শুরু হয়েছে। যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, রোগী ও তাঁদের পরিবারের হাতে দ্রুত পরীক্ষার রিপোর্ট পৌঁছে দিতে শীঘ্রই কিউআর কোড ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা নির্ধারিত ব্যবস্থায় পরীক্ষার পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও কেন রোগীদের বাইরে ছুটতে হবে, সেই প্রশ্নই এখন বড়ো হয়ে উঠেছে।



