Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালীঘাটের গয়না-সম্পদের হদিশ নেই! ১৯৮০ থেকে ভল্টের চাবি ‘নিখোঁজ’, মানা হয়নি সুপ্রিম নির্দেশ, গঠন হয়নি নির্বাচিত কমিটিও

শক্তিতীর্থ কালীঘাটে মা কালীর গয়না কোথায়? ধনরত্ন-সম্পদের হিসাব কোথায়? তারই হদিশ চেয়ে এবার বিচারকের দ্বারস্থ হল সাবর্ণ পরিবার।

কালীঘাটের গয়না-সম্পদের হদিশ নেই! ১৯৮০ থেকে ভল্টের চাবি ‘নিখোঁজ’, মানা হয়নি সুপ্রিম নির্দেশ, গঠন হয়নি নির্বাচিত কমিটিও
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: শক্তিতীর্থ কালীঘাটে মা কালীর গয়না কোথায়? ধনরত্ন-সম্পদের হিসাব কোথায়? তারই হদিশ চেয়ে এবার বিচারকের দ্বারস্থ হল সাবর্ণ পরিবার। সতীপীঠের অন্যতম এই কালীঘাটে মায়ের দেহাংশ প্রাপ্তি থেকে শুরু করে মন্দির প্রতিষ্ঠা—সাবর্ণ পরিবারের ইতিহাস জড়িয়ে সর্বত্র। সেই পবিত্র স্থানে চরম অরাজকতা চলছে—এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করল ওই পরিবার। তাদের অভিযোগ, ধনসম্পদের লুট চলছে খাস কালীঘাটে। মায়ের সম্পদ গচ্ছিত রাখার জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভল্ট নির্ধারিত। অথচ, তার চাবিরও খোঁজ নেই। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ১৯৮০ সাল থেকে উধাও সেই ভল্টের চাবি। ফলে সেখানে গচ্ছিত রাখা গয়না কোথায়? আদৌ আছে তো? উঠছে সেই প্রশ্নও।

Advertisement

সাবর্ণ গোত্রীয় জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতীদেবী হালিশহর থেকে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন ১৫৬৯ সালে। কথিত আছে, ১৫৭০ সালে তিনি জলের নীচে খুঁজে পান মায়ের ডান পায়ের আঙুল। তাঁকে দেখা দেন মা স্বয়ং। সেই দেহাংশকেই প্রতিষ্ঠা করা হয় পর্ণকুটিরে। আজ কালীঘাটে যে মাতৃমূর্তি প্রতিষ্ঠিত, তা সাবর্ণদের কুলদেবী ভুবনেশ্বরী মায়ের আদলে। সেই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জজের কাছে, যিনি পদাধিকারসূত্রে ওই মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান। 
কী অভিযোগ? সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে বিচারককে জানিয়েছি, রাষ্ট্রায়ত্ত  ব্যাংকের যে ভল্টে মায়ের সম্পদ ও গয়না থাকে, ১৯৮০ সাল থেকে তার চাবির হদিশ নেই। মন্দিরের সম্পদের হিসাব রাখার যে কমিটি গড়া হয়েছিল, তার মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে সম্পদের কোনো হিসাবই হয়নি। সেখানে লুট চলেছে। আমরা অভিযোগ করেছি, কালীঘাটে সম্পদের নয়ছয় হয়েছে এবং ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে। চাবি হারানোর ব্যাপারে দ্রুত এফআইআর করার নির্দেশ জারির আরজিও জানিয়েছি আমরা।’ 
কালীঘাট মন্দির কমিটির নির্বাচন বন্ধ ২০১৪ সাল থেকে। অথচ এই মন্দির সম্পর্কিত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর। সেবায়েতদের মধ্যে থেকে যেমন কমিটিতে পাঁচ জনের নির্বাচিত হওয়ার কথা, তেমনই মন্দিরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, বাইরের এমন ছ’জনেরও তাতে থাকার কথা। এই কমিটির চেয়ার‌ম্যান হবেন জেলা জজ। প্রতিনিধি হিসাবে যে বণিকসভার থাকার কথা, তারা জানিয়েছে, যে শিল্পকর্তা তাদের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতেন, তাঁর প্রয়াণের পর মন্দিরের তরফে আর যোগাযোগ করা হয়নি। দেবর্ষিবাবু বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডিএম অফিসকে ভক্তদের দানসামগ্রী দেখভালের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু বাস্তবে সেসব দেখা যায় না। মন্দিরে গেলেই বোঝা যায়, কতটা অরাজকতা চলছে। হাইকোর্টের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভক্তদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মাকে দর্শনে বাধা, গর্ভগৃহে যেমন খুশি প্রবেশ চলছে অবাধে।’ 
কালীঘাট মন্দিরের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। ২০০৬ সালে হাইকোর্টে গড়ায় এই অভিযোগ। মন্দিরের তৎকালীন চেয়ারম্যান তথা জেলা জজ আক্ষেপ করেন, মন্দিরের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। যে প্রণামি জমা পড়ার কথা, তা পড়ে না। পুজোর পালা বিক্রি হয়ে যায় বহিরাগতদের কাছে। ২০ বছর পরও যে পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি, তা সাবর্ণদের অভিযোগে ফের প্রমাণিত। মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলানো কল্যাণ হালদার বলেন, ‘কাউন্সিল অব সেবায়েতস নির্বাচন সংঘটিত করে। এখানকার সম্পাদক প্রয়াত এবং চেয়ারম্যান শয্যাশায়ী থাকায় নির্বাচন হয়নি। তবে নির্বাচনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জেলা জজকে জানানোও হয়েছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ