নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহে যে তাদের কোনো ভূমিকা নেই, সাধারণ মানুষকে তা বোঝাতে মরিয়া বিজেপি। এসংক্রান্ত কোনো ‘পারসেপশন’ যদি থাকে, তাহলে তা অবিলম্বে দূর করার বার্তা আগেই দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এবার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে এব্যাপারে আরও এক ধাপ এগলেন তিনি। শনিবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকে তুলোধোনা করেছেন বিজেপি সভাপতি। এদিন তিনি বলেন, ‘লুটের টাকা কে দখল করবে, আদতে তা নিয়েই তৃণমূলের সব পক্ষের ঝগড়া। ভালো তৃণমূল এবং খারাপ তৃণমূল বলে কিছু নেই। প্রত্যেকেই সমান। তৃণমূলের নানা ভাগের সকলেই এখন দলের টাকা নিজেদের দখলে আনতে চাইছে। সকলেই লুটেছে। এদের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই।’
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে শমীকবাবুর কটাক্ষ, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানুষ ফাইটার হিসাবে চিনতেন। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সেই ফাইটার রূপ মানুষ আর দেখতে পায়নি। তৃণমূল কুচকুচে সাদা এবং ধবধবে কালো একটি দল। ওদের নিয়ে কিছু না বলাই ভালো। লুটেরার দলে ৭৫:২৫ অনুপাতে আমদানি এখন বন্ধ। তাই এই অবস্থা। মৃতদেহের চুল ছিঁড়ে তার ওজন কমানো সম্ভব নয়।’ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এমন প্রেক্ষাপটে রাজ্যের বিজেপি সরকার এবং বিজেপি পার্টির ‘দায়’ও স্পষ্ট করেছেন শমীকবাবু। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকারের কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনোদিন দুর্নীতি অভিযোগ উঠবে না। কিন্তু উঠলেও সেটা পুরোপুরি সরকারের বিষয়। সরকারই সামাল দেবে। মুখ্যমন্ত্রী দেখবেন।’ অর্থাৎ, বিজেপি সরকারের কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পার্টি যে তার দায়িত্ব নেবে না, সেটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল সংক্রান্ত জল্পনার মধ্যেই শনিবার দিল্লিতে শমীকবাবুর সরকারি বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। যদিও এনিয়ে কেউই মুখ খোলেননি। রথযাত্রার আগেই মোদি মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হতে চলেছে। তবে তার আগে বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় টিম তৈরি হবে। বঙ্গ বিজেপির প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে সংঘ পরিবারের একজন প্রবাসী বাঙালিকে নিয়েও চর্চা চলছে। দলীয় সূত্রের দাবি, চলতি মাসে রাজ্য বিজেপিতেও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পরিবর্তন হবে। নিয়মমতো মন্ত্রীদের বাদ পড়তে হবে রাজ্য কমিটি থেকে। জেলার দলীয় নেতাদের একটি বড়ো অংশকে রাজ্য কমিটিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত।