সংবাদদাতা, কাটোয়া: স্কুলে পড়ুয়া-শিক্ষক নেই। শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলছে। দু’বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কেতুগ্রাম গঙ্গাটিকুরি জুনিয়র হাইস্কুল। ফলে পড়ুয়াদের প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হচ্ছে। বন্ধ স্কুলঘরের বারান্দায় ঘুঁটে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। বন্ধ স্কুলচত্বর ঝোপজঙ্গলে ঢেকেছে। রাতে অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
কেতুগ্রাম-২ চক্রের অবর স্কুল পরিদর্শক অভীক মণ্ডল বলেন, পড়ুয়া-শিক্ষক না থাকাতেই স্কুলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে আমরা আবার স্কুলটি চালু করার উদ্যোগ নেব।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে কেতুগ্রাম-২ ব্লকের গঙ্গাটিকুরি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় জুনিয়র হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় তিন কাঠা জায়গার উপর গড়ে ওঠে ঝাঁ চকচকে ভবন। এই স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন দেয় রাজ্য সরকার। স্কুলে রয়েছে তিনটি শ্রেণিকক্ষ, একটি অফিসরুম ও মিড ডে মিলের জন্য আলাদা ঘর। ২০১৫-’১৬ সালে দু’লক্ষ টাকা খরচ করে স্কুলের মিড ডে মিল রান্নার ঘর করা হয়। দক্ষিণপাড়া থেকে উত্তরপাড়ার গঙ্গাটিকুরি অতীন্দ্রনাথ বিদ্যাপীঠের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। মাঠের কাদাজল পেরিয়ে সেখানে যেতে মেয়েদের কষ্ট হতো। তাই দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দাদের দাবি মেনে সেখানে মেয়েদের জন্য জুনিয়র হাইস্কুলটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রথমদিকে ওই স্কুলে প্রায় ৮০-৯০জন পড়ুয়া পড়ত। দু’জন অতিথি শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সাল থেকে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে থাকে। কারণ, স্থানীয় অভিভাবকদের একাংশ অতিথি শিক্ষকের কাছে তাঁদের মেয়েদের পড়াতে রাজি ছিলেন না। তাঁরা স্থায়ী শিক্ষক চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য হয়ে যায়। তবুও প্রতিদিন স্কুলে আসতেন দুই অতিথি শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও নুরুল আমিন। ২০২৪ সালের মে মাস নাগাদ দু’জনেই অবসর নেন। তারপরেই স্কুলে তালা ঝোলে।
কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরি জুনিয়র হাইস্কুকের শ্রেণিকক্ষগুলি কার্যত খাঁখাঁ করছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পড়ুয়াদের হাতের লেখা দেওয়াল ম্যাগাজিন। ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা রয়েছে ক্লাস রুটিন। সেই রুটিন যে শেষ কবে লেখা হয়েছিল, তা জানা যায়নি। পড়ুয়া না থাকায় বেঞ্চগুলিতে ধুলোর আস্তরণ পড়েছে। স্কুলে ছুটির ঘণ্টা আর বাজে না। স্কুলের দেওয়ালের রংও ফিকে হয়ে গিয়েছে। এখন বন্ধ স্কুলের বারান্দায় বাসিন্দারা ঘুঁটে দেন। অভিযোগ, রাত হলেই ওই বন্ধ স্কুল চত্বরে অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন্ত লাহা, সুনীল মণ্ডল বলেন, আমরা চেয়েছিলাম যাতে দক্ষিণপাড়ার মেয়েদের মাঠ পেরিয়ে ওই স্কুলে না যেতে হয়। তাই প্রশাসনের কাছে দরবার করে স্কুলটি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন প্রথম থেকেই স্কুলটিতে দু’জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে অতিথি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। আমরা স্থায়ী শিক্ষক চেয়েছিলাম। তাই অভিভাবকদের একটা বড় অংশ তাঁদের মেয়েদের এই স্কুলে আর পাঠাতে রাজি হলেন না। এখন ফের স্কুলটি যাতে চালু হয়, তা প্রশাসন নজর দিক।-নিজস্ব চিত্র