সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের রতুয়া ১ ব্লকে বারোমাসিয়া নদীর উপরে পাকা সেতু থাকলেও তা কোনো কাজে আসছে না। চারটি পিলারের উপর ভর করে শূন্যে ঝুলে থাকা সেই সেতু দিয়ে আজও যাতায়াত হয় না। কারণ, দু’প্রান্তে সংযোগকারী রাস্তার অভাব।
সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের রতুয়া ১ ব্লকে বারোমাসিয়া নদীর উপরে পাকা সেতু থাকলেও তা কোনো কাজে আসছে না। চারটি পিলারের উপর ভর করে শূন্যে ঝুলে থাকা সেই সেতু দিয়ে আজও যাতায়াত হয় না। কারণ, দু’প্রান্তে সংযোগকারী রাস্তার অভাব।
দেড় দশক ধরে বারোমাসিয়া নদীর ঠুঁটিয়া ঘাটে এমন অবস্থা রয়েছে বলে দাবি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের দিকে তৎকালীন মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির উদ্যোগে শুরু হয় সেতুর নির্মাণকাজ। ২০১২ সালের মধ্যেই কাজ শেষ হয়। কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৫ বছর। অথচ আজও চলাচলের অযোগ্য সেটি। অভিযোগ, ভোটের সময় প্রতিশ্রুতির বন্যা বইতে দেখা যায় এলাকায়। সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই আশ্বাস দেন ব্রিজটি চালু হবে। কিন্তু ভোট মিটলেই সেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায়।
এলাকার বাসিন্দা তারিকুল ইসলামের কথায়, এতদিন কেন সেতু চালু হল না, তার জবাব নেই নেতাদের কাছে। ভোটের সময় শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। নতুন সরকার এই প্রকল্পটি নিয়ে কিছু ভাবুক। আরেক বাসিন্দা মহম্মদ ইসমাইল বলেন, এটি চালু হলে রতুয়া ১ ব্লকের দেবীপুর, ভাদো, রতুয়া, কাহালা ও ভালুকা পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষের যাতায়াতে আমূল পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে বর্ষাকালে পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি ডিঙি। তাতেও রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। স্থানীয়দের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবা সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি নিত্যসঙ্গী। ছাত্রছাত্রী, অফিসযাত্রী, স্বাস্থ্যকর্মী কারও রেহাই নেই। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা সাইদুর রহমানের কথায়, জীবনের শেষ বেলায় অন্তত একবার এই সেতু দিয়ে নিরাপদে পার হতে চাই। কিন্তু বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মালদহ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, সেতুর দু’প্রান্তে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজন প্রায় আট বিঘে জমি। তিন ফসলি সেই জমি অধিগ্রহণ করতে হলে কৃষকদের বাজারদরের চেয়েও বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
রতুয়া এলাকার বাসিন্দা তথা মালদহ উত্তরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া বলেন, পনেরো বছর তৃণমূল সরকার ভাঁওতা দিয়ে মানুষের কাছ থেকে ভোট নিয়েছে। ব্রিজের কাজ যাতে শেষ হয় প্রশাসনিক স্তরে দরবার করব। নিজস্ব চিত্র