


সংবাদদাতা, করিমপুর: আগামী ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাত্রার ঘোষণায় খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে করিমপুর সহ সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে সেই আনন্দের মাঝেই করিমপুরে সরকারি বাস পরিষেবা পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এলাকায় যদি সরকারি বাসই না চলে, তাহলে সরকারের ঘোষিত পরিষেবার সুবিধা তারা পাবেন কীভাবে? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭২ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতা-করিমপুর রুটে প্রথম সরকারি বাস পরিষেবা চালু হয়েছিল। শুরুতে একটি বাস চললেও পরবর্তীতে শিকারপুর পর্যন্ত মোট তিনটি সরকারি বাস চালু হয়। সময়ের সঙ্গে করিমপুর-কলকাতা এবং করিমপুর-দুর্গাপুর রুটে প্রায় আটটি সরকারি বাস নিয়মিত চলাচল করত। পাশাপাশি এই রুটে প্রায় একশোরও বেশি বেসরকারি বাস পরিষেবা ছিল। বর্তমানে বেসরকারি বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সরকারি বাস পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের দাবি, একের পর এক নির্বাচন এলেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আগের সরকার কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। করিমপুরের বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই সীমান্ত অঞ্চলে এখনও রেল পরিষেবা না থাকায় বাসই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। করিমপুর ১ ও ২ ব্লকের আঠারোটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ ছাড়াও নাজিরপুর, বেতাই ও তেহট্ট এলাকার বহু বাসিন্দা চিকিৎসা, চাকরি, শিক্ষা ও সরকারি কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন কৃষ্ণনগর ও কলকাতায় যাতায়াত করেন। বর্তমানে করিমপুর থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড়শো বেসরকারি যাত্রীবাহী বাস কলকাতা ও কৃষ্ণনগর রুটে চলাচল করছে। তবে যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, সরকারি বাসের তুলনায় বেসরকারি বাসে ভাড়া অনেক বেশি। করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ৬০ টাকা হলেও করোনা পরবর্তী সময় থেকে বেসরকারি বাসে সেই ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ টাকা। অথচ সরকারি বাস চললে একই দূরত্বে কম খরচে এবং তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করা যেত বলে দাবি যাত্রীদের। করিমপুর বাস টিকিট কাউন্টারের এক কর্মী জানান, একসময় প্রতিদিন করিমপুর থেকে আটটি সরকারি বাস কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিত এবং একই সংখ্যক বাস কলকাতা থেকে ফিরত। ভোর পাঁচটায় প্রথম বাস ছাড়ার পর সকাল, দুপুর ও বিকেলে ধাপে ধাপে বাস চলাচল করত। পরে কয়েকবার সরকারি উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস পরিষেবা চালু হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সীমান্ত এলাকার মানুষের দাবি, সরকারি বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হলে সাধারণ মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। বিশেষ করে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রার সরকারি ঘোষণার বাস্তব সুবিধা পেতে হলে করিমপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত সরকারি বাস চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এব্যাপারে বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, একসময় অনেকগুলো সরকারি বাস পরিষেবা থাকলেও আস্তে আস্তে সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কম ভাড়া দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারতেন। এখন সরকারের সিদ্ধান্তে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য কোনও ভাড়া লাগবে না। তাই করিমপুরে পুনরায় সরকারি বাস চালু করার জন্য জানাব।