


গুরুগ্রাম: গুরুগ্রামে তরুণী টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবের হত্যা মামলায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। মেয়েকে গুলি করে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাধিকার বাবা দীপককে। শনিবার আদালত তাঁকে দু’সপ্তাহের জন্য জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। এদিন গুরুগ্রাম পুলিস জানিয়েছে, রাধিকার আদৌ নিজস্ব কোনও টেনিস অ্যাকাডেমি ছিল না। তিনি বরং বিভিন্ন জায়গায় টেনিং কোর্ট বুকিং করে প্রশিক্ষণ দিতেন। যদিও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, রাজ্যস্তরের এই টেনিস খেলোয়াড় নিজের অ্যাকাডেমি খুলেছিলেন। ফলে পুলিসের এদিনের দাবি ঘিরে রহস্য আরও বাড়ল। তারই মধ্যে অজয় যাদব নামে এক কোচের সঙ্গে রাধিকার হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রাধিকার আক্ষেপ, ‘বাড়িতে বড্ড বিধিনিষেধ। কিছুদিনের জন্য বিদেশে গিয়ে স্বাধীনভাবে জীবনকে উপভোগ করতে চাই।’
কোচ অজয়ের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকনে রাধিকার বক্তব্য ছিল, ‘অক্টোবর, নভেম্বর বা ডিসেম্বরের দিকে দু-এক মাসের জন্য যেভাবেই হোক এখান থেকে বেরতে চাই। জীবন উপভোগ করতে চাই। স্বাধীনভাবে কাটাতে চাই কিছুদিন।’ কিন্তু কেন? কোচের প্রশ্নের জবাবে রাধিকা বলেছিলেন, ‘বাড়িতে সবাই ঠিকঠাকই আছে। কিন্তু এখানে বড্ড বিধিনিষেধ।’ ঠিক কবে এই হোয়াটসঅ্যাপ কথোপথন চলেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিদেশে কোথায় থাকতে চান, তারও উল্লেখ করেছিলেন নিহত তরুণী। কোচকে রাধিকা বলেছিলেন, ‘দেখুন, চীনের খাবার-দাবার নিয়ে সমস্যা হবে। তবে দুবাই বা অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়গা ঠিক আছে। অস্ট্রেলিয়ায় আত্মীয়-পরিজন রয়েছে। দুবাইতে আপনি থাকেন।’ রাধিকার অন্য এক কোচ অঙ্কিত প্যাটেলের অবশ্য দাবি, বাবা-মেয়ের মধ্যে কোনও সংঘাত রয়েছে বলে কখনও মনে হয়নি তাঁর। সংবাদ মাধ্যমকে অঙ্কিত বলেছেন, ‘রাধিকার যখন ১১-১২ বছর বয়স, তখন থেকে ওকে চিনি। ওর বাবাকেও ভালোভাবেই চিনতাম। দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল। বাবা সব সময় মেয়ের পাশে থাকতেন। কিন্তু কখন যে কী ঘটে যায়, কেউ বলতে পারে না।’
রাধিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার এদিন বলেন, ‘নিহত তরুণীর নিজস্ব কোনও টেনিস অ্যাকাডেমি ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় টেনিস কোর্ট বুকিং করে প্রশিক্ষণ দিতেন। দীপক (বাবা) বহুবার নিষেধ করা সত্ত্বেও মেয়ে কথা শোনেননি। দু’জনের মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ এটাই।’ ধোঁয়াশা বাড়ছে রাধিকার মা মঞ্জুদেবীর ভূমিকা নিয়েও। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির নীচের তলায় ছিলেন। ওই অংশে সপরিবারে থাকেন তাঁর দেওর কুলদীপ। যদিও পুলিসে দায়ের করা অভিযোগে কুলদীপের বক্তব্য ছিল, বাড়ির দোতলায় রান্নাঘরে রাধিকাকে দীপক যখন গুলি করেন, মঞ্জুদেবী তখন সেখানেই ছিলেন। এরইমধ্যে সামনে আসছে মঞ্জুদেবীর একটি বিস্ফোরক বয়ান। তাঁর দাবি, স্বামী দীপক রগচটা প্রকৃতির মানুষ। একটুতেই রেগে যান। দেওর কুলদীপের সঙ্গে আমার কথা বলাতেও আপত্তি ছিল তাঁর। মেয়ের উপার্জনে সংসার চলে বলে গ্রামবাসীরা খোঁটা দেওয়ায় আগেও রাধিকাকে খুনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন।’ -ফাইল চিত্র