সোহম কর, কলকাতা: রাসবিহারী মোড় থেকে কয়েক পা এগলেই নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট। এই রাস্তাজুড়ে আপাতত শুধুই ‘ঠুক-ঠাক’ শব্দ। জোরকদমে চলছে মণ্ডপসজ্জার কাজ। আর পুজোর সময় এই রাস্তায় ঢুকে পড়লেই এক ঢিলে দুই পাখি। সামনেই বাদামতলা আষাঢ় সংঘ। সেখান থেকে দু’পা দূরে ৬৬ পল্লি। এই হেভিওয়েট দুই পুজোমণ্ডপই ‘এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ’! বাদামতলার এই বছরের থিম ‘আর্জি’। ৬৬ পল্লি ফুটিয়ে তুলছে কেরলের লোকশিল্প।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে মণ্ডপসজ্জার কাজ চলছে বাদামতলা আষাঢ় সংঘে। টিন দিয়ে ঘেরা মণ্ডপ। তার ভিতরে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এবারের পুজোর ভাবনা—‘আর্জি’। আঙুলের ছাপের উপর লেখা ‘আর্জি’ শব্দটি দেখলেই মনে হবে, ব্যাঙ্কের বইতে যেন টিপ ছাপ দেওয়া। কী বোঝানো হচ্ছে এই থিমের মাধ্যমে? ৮৭তম বছরে পা দেওয়া বাদামতলা তাদের থিমের বিষয়ে খুব একটা খোলসা করতে চাইছে না। উদ্যোক্তাদের কথায়, পুজোমণ্ডপ সাজানো হচ্ছে বিচার ব্যবস্থার নানা প্রতীকের মাধ্যমে। ন্যায় দণ্ডের প্রতিরূপ, আলো, প্রতিমা, সবকিছুতেই বিচার সংক্রান্ত সাংকেতিক প্রতিফলন থাকবে। এবারের পুজোয় মায়ের কাছে বাদামতলার আর্জি, দেশে-সমাজে যেন চিরকাল শন্তি-শৃঙ্খলা ও সুবিচার বজায় থাকে। পরিকল্পনায় রয়েছেন সোমনাথ দোলুই। প্রতিমা নির্মাণ করছেন পল্লব জানা। আবহের নেপথ্যে দেবদীপ মুখোপাধ্যায় ও আলোর কাজ করেছেন প্রবাল বসু।
বাদামতলার প্রতিবেশী ৬৬ পল্লি এ বছরে পা দিয়েছে ৭৫ বছরে। এবারে তারা তুলে ধরছে কেরলের একটি লোকশিল্প। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদ্যুম্ন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এবছর আমাদের মণ্ডপের শিল্পী গোপাল পোদ্দার। প্রতিমা তৈরি করছেন রাজেশ মণ্ডল। মহালয়ার পরেই সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে মণ্ডপ। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে।’
এবারে দক্ষিণ কলকাতায় পুজো পরিক্রমায় বের হলে তালিকায় উপরের দিকেই রাখতে হবে এই দুই ক্লাবকে। কালীঘাট মেট্রো থেকে বেরিয়ে ভেঁপুতে সুর তুলতে তুলতেই পা মেলাতে হবে বাদামতলামুখী ভিড়ে।