লখনউ: গুন্ডা দমন আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে তুলোধোনা করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর পর্যবেক্ষণ, এই কঠোর আইনটিকে হেনস্তার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে রাজ্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেই মনে হচ্ছে। আদালতের সামনে যে মামলাগুলি আসছে, সেগুলি তেমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গেও পাশ হয়েছে গুন্ডা দমন আইন। তবে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আমাদের সরকার এই আইনের অপব্যবহার করবে না।
ঘটনাচক্রে, সম্প্রতি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) প্রয়োগ নিয়েও সুর চড়িয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করে উত্তরপ্রদেশের নয়ডার জেলাশাসক তথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা মেধা রূপমকে বেতন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও। তবে হাইকোর্টের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে বলেও খবর। তার মধ্যেই এবার গুন্ডা দমন আইনের অপপ্রয়োগ নিয়েও যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বিচারপতি বিদ্যার্থী বলেছেন, গুন্ডা দমন আইন ‘খুবই শক্তিশালী’। যেসব মামলায় একেবারে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে শুধুমাত্র সেক্ষেত্রেই ‘চরম সতর্কতা’র সঙ্গে এই আইন প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু ঠিক কী কারণে হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের এই পর্যবেক্ষণ? ২০১০ ও ২০২০ সালের দু’টি পুরানো ফৌজদারি মামলার ভিত্তিতে জাহিদ আলি নামে এক ব্যক্তিকে ‘গুন্ডা’ বলে ঘোষণা করেছিলেন গোন্ডার জেলাশাসক। ওই ব্যক্তিকে ছ’মাসের জন্য জেলা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। গুন্ডা দমন আইনের ৩ (১) ধারার অধীনে জেলাশাসক গত ১১ মে ওই নির্দেশ জারি করেছিলেন। যদিও পুরানো সেই দু’টি মামলার মধ্যে ২০১০ সালের মামলাটিতে জাহিদ আলিকে ২০১৭ সালের ২৬ আগস্ট বেকসুর খালাস করেছিলেন গোন্ডার মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট। ফলে, সব দিক বিবেচনা করেই জেলাশাসকের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশে সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনাও করেছে।