Bartaman Logo
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সমালোচনায় ব্রিকস

বিশ্বজুড়ে বহু রাষ্ট্রগোষ্ঠী আছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবথেকে বেশি রোষানল একটিকেই ঘিরে, সেটি ‘ব্রিকস’। ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকার এই পঞ্চরাষ্ট্রগোষ্ঠীকে ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই মনে করেন, আমেরিকার সবথেকে বড় প্রতিস্পর্ধী।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সমালোচনায় ব্রিকস
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে বহু রাষ্ট্রগোষ্ঠী আছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবথেকে বেশি রোষানল একটিকেই ঘিরে, সেটি ‘ব্রিকস’। ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকার এই পঞ্চরাষ্ট্রগোষ্ঠীকে ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই মনে করেন, আমেরিকার সবথেকে বড় প্রতিস্পর্ধী। চ্যালেঞ্জ এবং বিশ্বশাসনের প্রতিদ্বন্দ্বীও। আর সেকথা দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে বারবার প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে যে যৌথ ঘোষণাপত্র হয়েছে, সেখানে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছে আমেরিকার বাণিজ্য শুল্ক নীতিকে। আমেরিকা অথবা ট্রাম্পের নাম না করে সেই ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধিকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে যেভাবে যথেচ্ছ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে কিংবা নিজেদের স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে অন্য দেশের উপর আর্থিক বোঝা বলবৎ করা চলছে, তার তীব্র বিরোধিতা করছে ব্রিকস। ব্রিকস মনে করছে, এরকম চললে বিশ্ববাণিজ্য বাধাপ্রাপ্ত হবে। বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন কমে যাবে। সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হবে। সার্বিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা ডেকে আনবে। তাই এই ধরণের প্রবণতাকে প্রতিহত করবে ব্রিকস।’

Advertisement

ব্রিকসের এই তোপের লক্ষ্য যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা স্পষ্ট। গত এক বছর ধরে ট্রাম্প লাগাতার বিভিন্ন দেশের উপর আরোপ করছেন ট্যারিফ ও জরিমানা, যাকে শুল্ক সন্ত্রাস বলাও বাতুলতা নয়। এবার তা নিয়ে সরাসরি প্রত্যাঘাত করল ব্রিকস। ‘দিল্লি ডিক্লারেশন’ নামক ওই ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাপত্র বলেছে, একতরফা শুল্ক, আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করা, এসব বিশ্বকে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির আঘাত সবথেকে বেশি এসেছে ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশগুলির উপরই। ভারত ও ব্রাজিলের উপর ট্রাম্প সর্বোচ্চ শুল্ক চাপিয়েছিলেন। রাশিয়ার উপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপাতে মস্কো-মিত্র সব দেশকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। চীনের সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধ চলছেই। এখানেই শেষ নয়, ব্রিকস বৈঠকে পাঁচ রাষ্ট্রই একমত যে, ডলারের একচ্ছত্র আগ্রাসন প্রতিহত করতে হবে। তাই স্থানীয় মুদ্রায় বেশি করে হবে বাণিজ্য লেনদেন। মূল লক্ষ্য যাতে ডলার দুর্বল হয়। সুতরাং স্বাভাবিক ট্রাম্প আরও ক্ষুব্ধ হবেন ব্রিকসের উপর। বস্তুত বিশ্ব কূটনীতি ক্রমেই অগ্রসর হচ্ছে এক মহা সংঘাতের দিকে। ব্রিকস বনাম ট্রাম্প!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ