Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নববর্ষে কলিগ্রামে মা বটতলাবাসিনী, গম্ভীরা থানের পুজো শতাব্দী প্রাচীন

বটতলাবাসিনীর মুখোশ হাতে নিয়ে দৌড় শুরু হয় গভীর রাতে। চৈত্র সংক্রান্তিতে পুজোর শেষ লগ্নে মাছ খেয়ে ভাঙা হয় নির্জলা উপবাস। মালদহের চাঁচলে বিভিন্ন প্রাচীন ও রাজ আমলের থানগুলিতে নিয়ম মেনে এভাবেই চড়ক পুজো চলে।

নববর্ষে কলিগ্রামে মা বটতলাবাসিনী, গম্ভীরা থানের পুজো শতাব্দী প্রাচীন
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০৪
Prefer us on Google

উজির আলি, চাঁচল: বটতলাবাসিনীর মুখোশ হাতে নিয়ে দৌড় শুরু হয় গভীর রাতে। চৈত্র সংক্রান্তিতে পুজোর শেষ লগ্নে মাছ খেয়ে ভাঙা হয় নির্জলা উপবাস। মালদহের চাঁচলে বিভিন্ন প্রাচীন ও রাজ আমলের থানগুলিতে নিয়ম মেনে এভাবেই চড়ক পুজো চলে।

Advertisement

চাঁচলের কলিগ্রামে  মা বটতলাবাসিনী ও গম্ভীরা থানে পুজোর আয়োজন করা হয় প্রতিবছর। শতাব্দী প্রাচীন ওই এলাকার পুজোয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। মূলত ওই এলাকার তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষেরা সেই পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পুরনো রীতি মেনে এবারও মায়ের পুজো অর্চনা করা হবে। রেওয়াজ মেনে চৈত্র সংক্রান্তির রাত থেকে পুজো শুরু হবে। সেই রাতেই মা বটতলাবাসিনীর মুখোশ হাতে নিয়ে দৌড় শুরু করবেন ভক্তরা। আমবাগানে একটি থানে দৌড় শেষ করে হবে কলিগ্রামে মা বটতলাবাসিনী ও গম্ভীরা থানে পুজোর আয়োজন করা হয় প্রতিবছর। সেখান থেকে গম্ভীরা থানে গিয়ে ভোর নাগাদ পুজো করবেন ভক্তরা। পয়লা বৈশাখের দুপুরে রীতি মেনে আঞ্চলিক ভাষায় প্রচলিত  ‘জিহ্বা ফুরা’বের করা হবে। সেদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গম্ভীরা এলাকায় মেলাও বসবে। মেলায় প্রতিবছর অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন সরকার বলেন, চৈত্র সংক্রান্তিতে মা বটতলবাসিনী ও মা গম্ভীরার পুজো হয়। কয়েকশো বছরের প্রাচীন পুজো। আমাদের বিশ্বাস ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এখানে। আরেক স্থানীয় খোকন দাসের কথায়, রাতে মা বটতলাবাসিনীর পুজো হয়। ভোরে মা গম্ভীরার পুজো। বিকেলে মেলা বসে। দুই দিন পর পুজোর শেষ লগ্নে মাছ খেয়ে নির্জলা উপোস ভাঙা হবে। চাঁচল সদরের পোদ্দারপাড়াতেও প্রাচীন বটগাছের নীচে মা মশান কালীর থানে পুজো শুরু হয়। সেখানে শিবমূর্তির পাশে রেখে মশান কালীর ত্রিমুখোশ নিয়ে পুজো করে থাকেন ভক্তরা। রাতে চড়ক ঘোরানো হয় বটগাছ প্রাঙ্গণে। প্রাচীন বটগাছের নীচে মা মশানকালী জাগ্রত। বটবৃক্ষের নীচে রাজ আমলের সেই থানকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ। অন্যদিকে, চাঁচলের শিহিপুর, সুতাহাটি ও বীরস্থলী মাঠেও চড়কপুজো উপলক্ষ্যে বড় মেলা বসে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ