নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরোদমে চলছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির কাজ। অধিকাংশ এলাকায় রাস্তা তৈরি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাস্তা তৈরি করেই শুধু থেমে থাকছে না রাজ্য সরকার। দু’পাশে বসবাসকারীদের জমা জলের সমস্যা থেকে নিস্তার দিতে উন্নত নিকাশি পরিকাঠামোও গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন।
পানিহাটি, ভাটপাড়া, বারাকপুরের ওয়ারলেস জংশন, নৈহাটির রাজেন্দ্রপুর জংশন, মুড়াগাছা জংশন থেকে ঘোলা বাজার সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জল জমার সমস্যা আছে। বর্ষা হলে সদ্য তৈরি রাস্তা থেকে গড়িয়ে গিয়ে জল জমে দু’পাশের এলাকাগুলিতে। পাকাপাকিভাবে এই সমস্যায় ইতি টানতে চাইছে রাজ্য। এর স্থায়ী সমাধান খুঁজতে বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্লাটিনাম জুবিলি মেমোরিয়াল হলে বৈঠক করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পূর্তমন্ত্রী পুলক রায়, বারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়করা। উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির আধিকারিক ও উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদ্বী।
নিকাশি পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি ওই এলাকার জলাশয়গুলি ড্রেজিং করে জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করবে রাজ্য। ধারণ ক্ষমতা বাড়লে সংলগ্ন এলাকায় জমা জলের সমস্যায় পাকাপাকিভাবে ইতি টানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি উন্নত নিকাশি পরিকাঠামো গড়ে তুললে জল জমার সমস্যাও থাকবে না। একইসঙ্গে তড়িঘড়ি জল নামাতে মোটর পাম্প বসানোর কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে। বেশ কয়েকটি ভাগে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের কাজ হচ্ছে। পার্ট ওয়ানে হচ্ছে নিমতা থেকে মুড়াগাছা সাড়ে চার কিলোমিটার এবং বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগকারী এলিভেটেড করিডরের কাজ। পার্ট টু’তে হচ্ছে মুড়াগাছা থেকে কাঁপা পর্যন্ত ৩০.৪৯ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি। এটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনেকগুলি স্বপ্ন প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম। রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হলে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে কল্যাণী এইমস পৌঁছতে দু’ঘণ্টার জায়গায় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সহ এই প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র হুগলি-কল্যাণী সংযোগকারী ঈশ্বরগুপ্ত সেতু তৈরির জন্য কিছু বেশি সময় লাগবে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।