


তন্ময় মল্লিক: বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেবে। প্রতিটি জনসভায় নিয়ম করে এই কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিজেপি কর্মীরা মহিলাদের ফর্ম পূরণ করাচ্ছেন। তা নিয়ে অশান্তি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে বিধিভঙ্গের নালিশও জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, কমিশন স্পিকটি নট। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ কমিশন এবং বিজেপি উভয়ের লক্ষ্য, হারাতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ‘রেউড়ি কালচার’ বলে কটাক্ষ করা প্রধানমন্ত্রীও ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলছেন। তৃণমূল
বলছে, ‘এটাও প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার মতো আর এক ধাপ্পা। প্রধানমন্ত্রীর দম থাকলে গোটা দেশে এই প্রকল্প চালু করুন।’
বাংলায় বিজেপির ঘুম কেড়েছে মহিলা ভোট। সেটা বুঝেই বিজেপির দিল্লি নেতৃত্ব বদলে ফেলেছে প্রচারের ধরন। বদলে ফেলেছে সংকল্পপত্র। একুশে বিজেপির সংকল্পপত্রে রাজ্যের মহিলাদের জন্য আট দফা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাতে কোথাও ছিল না মহিলাদের টাকা দেওয়ার কথা। উলটে বিজেপি নেতারা বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন, ভোট পাওয়ার জন্য বিজেপি ‘রেউড়ি রাজনীতি’কে প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু এবার বিজেপির সংকল্পপত্রে বড় বড় করে লেখা হয়েছে, মহিলাদের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার কথা।
এখানেও ধাপ্পাবাজি আছে। সংকল্পপত্রে বলা হয়েছে, ‘স্বাবলম্বী করার জন্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’ অর্থাৎ এটা কোনো ভাতা বা অনুদান নয়। জুড়ে দেওয়া হয়েছে শর্ত, ‘স্বাবলম্বী করতে’। যাঁরা এই টাকা নেবেন তাঁদের কোনো না কোনো কাজের উদ্যোগ নিতে হবে। সেই শর্ত লঙ্ঘন করলে? বিহারের মতো এখানেও মহিলাদের টাকা ফেরতের নোটিশ পাঠানো হবে বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
তাঁদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে বিজেপির ‘আর্থিক সহায়তা’ প্রতিশ্রুতির মধ্যে আশমান-জমিন ফারাক রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা মা, বোনেরা নিজেদের বা সংসারের প্রয়োজনে খরচ করতে পারেন। কিন্তু এখানে পারবেন না। সম্ভবত সেই কারণেই বিজেপি দিল্লিতে মহিলাদের আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেও দিচ্ছে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী নিজে ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৫ সালের ৮ মার্চের মধ্যে মহিলাদের আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া শুরু হয়ে যাবে। মহারাষ্ট্রে ‘লাড়কি-বহেন’ যোজনা চালু হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই নানান অজুহাতে শর্ত না মানায় ৮৭ লক্ষ মহিলার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হবে।
ইংরাজিতে একটা কথা আছে, ‘এ বার্ড ইন দি হ্যান্ড ইস ওয়ার্থ টু ইন দি বুশ’। এর অর্থ, হাতের একটি পাখি বনের দু’টি পাখির চেয়ে মূল্যবান। এই প্রবাদটা হয়তো গোঘাটের সুমিত্রা ঘোষ, আউশগ্রামের মঞ্জু মাণ্ডি কোনো দিন শোনেননি। কিন্তু, তাঁরা জানেন, বাস্তবের সঙ্গে স্বপ্নের ফারাক কতটা। তাই বিজেপির মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা তুলতেই মঞ্জুদেবী বলেন, ‘দেব বলা আর দেওয়ার মধ্যে তফাৎ আছে। অনেকেই তো ‘দেব’ বলে। কিন্তু দিচ্ছে তো মমতাদি। দিদিই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।’ ভোট কোন দিকে? প্রশ্ন শুনে মঞ্জুদেবী হেসে বলেন, ‘সেটা আপনিই বুঝে নিন।’