•‘এবার খল নায়কের পালা’ শুধু নাটক নয়। এই প্রযোজনার মধ্যে দিয়ে সমাজের সেই সব দৃশ্য উঠে এসেছে, যা চিরকাল উচ্চবর্গের কাছে অবহেলিত। যে জগৎ ‘আন্ডার ওয়ার্ল্ড’ নামে সমাজের কাছে পরিচিত। এই অন্ধকার জগতের গভীরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিকে একত্রিত করে নাট্যরূপ দিয়েছেন অভিনেতা তথা পরিচালক কৌশিক কর। অপেরাধর্মী এই নাটকে রূপক ও সংকেতের ব্যবহার রয়েছে। তার মাধ্যমে সমাজে ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রলোভন দেখিয়ে কার্যসিদ্ধি করার চক্রান্তকে তুলে ধরা হয়েছে।
বস্তি জ্বালিয়ে ক্ষমতালোভীরা বহুতল বানিয়েছে। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি উচ্ছেদ হয়ে আশ্রয় নিয়েছে ব্রিজের তলায়। তাদের ক্ষোভ, হিংসা, লালসার টুকরো কোলাজ এই নাটক। অনেক না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকে গুমরে গুমরে জ্বলতে থাকে ক্ষোভের আগুন। সেই ক্ষোভের আগুন থেকেই জমে থাকা ক্রোধ জ্বলতে জ্বলতে সন্ত্রাসের রূপ নেয়। খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রাপ্য আদায়ের নায়ক হয়ে ওঠে বিষহরি। এই চরিত্রে রূপদান করেছেন কৌশিক কর।
কৌশিকের অভিনয়ের কথা নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। সঙ্গে তন্নিষ্ঠা বিশ্বাস (চুন্নি) সমান তালে সঙ্গ দিয়েছেন। তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। অসংখ্য চরিত্র। তার মধ্যে সনৎ সরকার, অঙ্কিতা মজুমদার, মৃণাল মুখোপাধ্যায় অভিনয়ে নজর কেড়েছেন। সকল কুশীলবদের সমবেত প্রয়াস নাটককে সম্পূর্ণ করে তুলতে সাহায্য করেছে। পরিচালকের মুন্সিয়ানা প্রশংসনীয়।
নাটকের মধ্যে অনেকগুলো স্তরকে দেখানো হয়েছে। যেখানে উঠে এসেছে বন্ধুত্ব, বেইমানি, প্রতিশোধ, বিপ্লব, প্রতিবিপ্লবের পাশাপাশি মিষ্টি প্রেমের খুনসুটি। প্রতিটি স্তরকে ভালো মিলিয়েছেন পরিচালক। সংলাপ ও নাচ-গানের মিশেলে নাটক উপভোগ্য হয়ে ওঠে। গানের কথা ও সুর পরিচালকের। আলোক পরিকল্পনা প্রিয়ব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ও বাদ্যযন্ত্র বিন্যাসে অভিজিৎ আচার্য।
তাপস কাঁড়ার