সংবাদদাতা, করিমপুর: একটি সবজি হাট আমূল বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রামের অর্থনৈতিক চিত্র। হোগলবেড়িয়া থানার বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা রাজাপুরের সবজি হাট এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, হাজার মানুষের কর্মসংস্থানেরও অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সবজি কেনাবেচার পর ট্রাক বোঝাই হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও ভিনরাজ্যেও যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছর দশেক আগেও রাজাপুর এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো বাজার বা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিকাঠামো ছিল না। বর্তমানে সেখানেই গড়ে উঠেছে জমজমাট সবজি হাট। সপ্তাহের সাত দিনই এই হাটে চাষিরা তাঁদের জমির উৎপাদিত পটল, বেগুন, লঙ্কা, কলা-সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি বেচার জন্য নিয়ে আসেন। সবজি বিক্রি করে করিমপুর ও সংলগ্ন এলাকার পাশাপাশি প্রায় ১০০টি গ্রামের চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল এই হাটে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট মহকুমার বেতাই, নাজিরপুর, মহিষবাথান, করিমপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সবজি হাট রয়েছে। তবে সেগুলির অধিকাংশে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসে। ব্যতিক্রম শুধু রাজাপুর। এখানে সপ্তাহের প্রতিদিনই সবজি বিক্রির সুযোগ পান চাষিরা। ফলে দূরদূরান্তের চাষিদের কাছেও এই হাটের গুরুত্ব বেশি। সবজি চাষি স্বপন বিশ্বাস জানান, ১৫-২০ কিলোমিটার দূরের হাটে সবজি নিয়ে যেতে হত। তাও সপ্তাহে দু’দিন। এখন বাড়ির কাছেই প্রতিদিন হাটে কেনাবেচা হওয়ায় চাষিদের খুব সুবিধা হয়েছে।
ব্যবসায়ী পরিতোষ সরকার বলেন, চাষি ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এই হাটে প্রায় ৪০০ শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ট্রাক সবজি বোঝাই হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং অন্য রাজ্যে যায়। ট্রাকের চালক এবং সহকারীরাও এই হাটকে কেন্দ্র করেই রোজগার করেন। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টোটো চালক সবজি নিয়ে হাটে আসেন। ব্যবসায়ী ও চাষিদের দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টন পটলই কেনাবেচা হয়। এর সঙ্গে লঙ্কা, বেগুন-সহ অন্যান্য সবজিও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন এই হাটে এক কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়।
এখানে শুধু চাষি বা ব্যবসায়ী নয়, শ্রমিক, পরিবহণকর্মী, টোটোচালক-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই হাটকে কেন্দ্র করে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তবে এত বড় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চললেও রাজাপুরে এখনো কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বা এটিএম নেই। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের। বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার অভাব তাঁদের কাছে বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজাপুরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা কিংবা এটিএম পরিষেবা চালু হলে চাষি, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই উপকৃত হবে। -নিজস্ব চিত্র