Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ায় বিক্ষোভ ‘ফ্যাশন’ বলে কটাক্ষ মন্ত্রী দিলীপের

অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। গত কয়েকদিন ধরে বঞ্চিত উপভোক্তাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে মেদিনীপুর থেকে মালদহ, খড়্গপুর থেকে বহরমপুর।

অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ায় বিক্ষোভ ‘ফ্যাশন’ বলে কটাক্ষ মন্ত্রী দিলীপের
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। গত কয়েকদিন ধরে বঞ্চিত উপভোক্তাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে মেদিনীপুর থেকে মালদহ, খড়্গপুর থেকে বহরমপুর। অন্নপূর্ণাদের সেই বিক্ষোভকেই এবার ‘ফ্যাশন’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার খড়্গপুর গ্রামীণের একটি হোটেলে বিজেপি কর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিতে এসে দিলীপবাবু বলেন, ‘বিক্ষোভ দেখানোটা তো ফ্যাশন আমাদের এখানে!’ রাজ্যের পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে তিনি এও বলেন, ‘আড়াই কোটিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিত এখানে। সাড়ে তিন লক্ষ পুরুষ ছিল তারমধ্যে। তাদের জেলে ভরা হবে। এক কোটি এমন আছে, যারা মাস্টারের স্ত্রী, সরকারি কর্মচারীদের স্ত্রী। তাদের নাম বাদ যাবে। আসলে পেয়ে পেয়ে অনেকের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দিলীপবাবু এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আবেদন করলেই পাবেন, এমনটা নয়। যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, এখানকার নাগরিকই নন, তাঁরা পাবেন না। সমস্ত আবেদন মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যাঁরা যোগ্য তাঁরা নিশ্চয়ই পাবেন। এব্যাপারে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলার বলেছেন। 
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন জমা পড়েছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ। প্রাথমিকভাবে ১কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেখান থেকে ১৭লক্ষ বাতিলের পর যোগ্য প্রাপকের সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১কোটি ৪৫ লক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০আগস্টের মধ্যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার ঢুকে যাওয়ার কথা। তবে টাকা না পাওয়ায়, বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের আন্দোলন দানা বাঁধে। শুক্রবার তা চরম আকার নেয়। মেদিনীপুর শহরে খোদ পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। আর এবার ওই ইস্যুতেই ‘বেফাঁস’ মন্তব্য করে বসেন মন্ত্রী দিলীপবাবু। তাঁকে পালটা আক্রমণ করেছেন বাম-কংগ্রেসের নেতা থেকে বঞ্চিত উপভোক্তারা। 
সবংয়ের নমিতা হাজরা, ডেবরার ভারতী ঘোড়ইরা শনিবার বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের মহিলা। সঠিকভাবেই আবেদন করেছিলাম। অ্যাপ্রুভ বলেও দেখিয়েছে। তা সত্ত্বেও টাকা পেলাম না কেন? যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এত ভোগান্তি কেন আমাদের? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো ঠিকমতো পেয়েছি এতদিন। সেজন্যই বিক্ষোভ দেখাতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। মন্ত্রীর যদি এখন ফ্যাশন মনে হয় আমাদের কিছু করার নেই। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি দেবাশিস ঘোষ বলেন, টাকা দিতে পারবেন না যখন ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন? তখন তো বলেছিলেন, সরকারি চাকুরে মহিলা ছাড়া সবাই পাবেন! সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, বঞ্চিত, গরিব মহিলাদের আন্দোলনকে দিলীপবাবুদের ফ্যাশন বলেই মনে হবে। বিক্ষোভকারীদের যে ওঁরা এখনো দেশদ্রোহী বা দিমাগী নকশাল তকমা দেননি, এটাই বড়ো কথা!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ