সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: শনিবার ছিল ছেলের জন্মদিন। অতিথিদের আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানানো হয়েছিল। জন্মদিন উপলক্ষ্যে সকালেই ময়নাগুড়ি বাজারে চলে এসেছিলেন পেটকাটি এলাকার বাসিন্দা, দীপঙ্কর সরকার। কিন্তু এটিএম কাউন্টারে গিয়েই চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যায় তাঁর। টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে ৫৭ হাজার টাকা। এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। দুপুরে ছুটে আসেন ময়নাগুড়ি থানার সাইবার সহায়তা কেন্দ্রে। সেখানে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সাইবার বিভাগের আধিকারিক দেখতে পান এপিকে ফাইলের মাধ্যমে তিনি আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, দীপঙ্করবাবুর যে রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানকার নাম বলে কিছুদিন আগে সকাল ৬টা নাগাদ একটি ফোন আসে। ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি দীপঙ্করবাবুর কাছে জানতে চান তিনি কোনো টাকা এখন লেনদেন করছেন কিনা। তিনি না বলে দেন। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকে গিয়ে সমস্ত কিছু খোঁজখবর নেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়ে দেয় কেউ ফোন করলে ওটিপি না দিতে।
দীপঙ্করবাবু পেশায় ঠিকাদার। তাঁদের একটি গ্রুপ রয়েছে। জানা গিয়েছে, হঠাৎ করে সেই গ্রুপে একজন এপিকে ফাইল পাঠায়। সাইবার বিভাগের ধারণা সেই এপিকে ফাইল থেকেই এই প্রতারণা হয়েছে। সাইবার বিভাগের আধিকারিক বলেন, মোবাইল পুরোপুরি ভাবে হ্যাক করে নেওয়া হয়েছিল। এপিকে ফাইলের মাধ্যমে তাঁর টাকা খোয়া গিয়েছে। সমস্ত ঘটনার তদন্ত চলছে।
দীপঙ্করবাবু বলেন, আমার ছেলের জন্মদিন। লোকজনদের পর্যন্ত বলে দেওয়া হয়েছিল। এখন আর জন্মদিন পালন করা হল না। ভোটের আগে কাজ করেছি, সেই বিল এখনও পাইনি। ৫৭ হাজার টাকাই ছিল ব্যাংকে। কীভাবে সংসার চালাব বুঝে উঠতে পারছি না। আমি চাই পুলিশ দ্রুত আমার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।