নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার দক্ষিণ দিয়ে বয়ে চলেছেসুবর্ণরেখা নদী। নদীর বালুতটে সোনার কণার সন্ধান পাওয়া যায়। উনিশ শতকে মধ্যভাগ থেকে ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা সোনার উৎসস্থল সন্ধানে এখানে এসেছেন। কিন্তু সোনার উৎসস্থলের সন্ধান আজও মেলেনি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার দক্ষিণ দিয়ে বয়ে চলেছেসুবর্ণরেখা নদী। নদীর বালুতটে সোনার কণার সন্ধান পাওয়া যায়। উনিশ শতকে মধ্যভাগ থেকে ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা সোনার উৎসস্থল সন্ধানে এখানে এসেছেন। কিন্তু সোনার উৎসস্থলের সন্ধান আজও মেলেনি।
সুবর্ণরেখার প্রাচীন নাম স্বর্ণকুল্লা। সংস্কৃত ভাষায় কুল্লা মানে জলধারা। ঝাড়খণ্ডে সুবর্ণরেখা নদীকে আজও স্বর্ণরেখা বলে ডাকা হয়। ঝাড়খণ্ড রাজ্যথেকে ঝাড়গ্রাম,পশ্চিম মেদিনীপুর ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে সুবর্ণরেখা। এর শাখানদী নেই। খারকাই, রোরো, কাঞ্চি, হারমু, ডুলুং সুবর্ণরেখার উপনদী। সুবর্ণরেখা উৎস থেকে টাটা নগরপর্যন্ত শীর্ণকায়া। বাংলা সীমান্তের ষাটিদহ পর্যন্ত নদীর জলপ্রবাহ বেড়ে গিয়েছে।ষাটিদহ থেকে রোহিণী পর্যন্ত নদীরমধ্যগতিতে প্রবাহিত হয়।গ্রীষ্মকালে ক্ষীণধারায় নদীর জল প্রবাহিত হয়। বর্ষায় বিপুল জলস্রোত নিয়ে নদী বয়ে যায়। সুবর্ণরেখা নদীর অববাহিকায় তামা,লোহা, ইউরেনিয়াম সহ নানা খনিজ ধাতুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।নদী তীরবর্তী দুই পাশের গ্ৰামের বহু মানুষ একসময় স্বর্ণরেণু সংগ্ৰহ করে জীবিকার নির্বাহ করত। স্বাধীনতা পরবর্তী কালে নদীর পাড় ধরে বহু কারখানা, খনি গড়ে উঠেছে।কলকারখানার দূষিত আবর্জনায় নদী তার স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। উনিশ শতকের শুরু থেকে ইউরোপীয় ভবঘুরে,পর্যটক থেকে গবেষকরাও সুবর্ণরেখা নদী অববাহিকায় সোনার উৎসস্থলের সন্ধানে এসেছেন। যদিও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গবেষক সুশীল কুমার বর্মন বলেন, আইরিশ ভূতত্ত্ববিদ ভ্যালেন্টাইন বল উনিশ শতকের মধ্যভাগে সুবর্ণরেখা নদীর অববাহিকায় জরিপের কাজে এসেছিলেন।সোনা সহ বিভিন্ন ধাতুর সন্ধান করেছিলেন। তাঁর লেখায় বিস্তারিত ভাবে সেসব লিপিবদ্ধ করেছেন।
ইউরোপীয়দের এই এলাকায় বারবার আসতে দেখা গিয়েছে। তবে কেন এসেছি তার ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়না। সুবর্ণারেখা, কংসাবতীও রূপনারায়ণ তিন নদীর নামই ধাতুর নাম দিয়ে। রূপনারায়ণের প্রাচীন নাম ছিরল রৌপ কুল্লা। জৈন বণিকরা তিনটি নদী পথ দিয়েই সূদূর অতীতে ধাতু নিয়ে যেত বাণিজ্য করতে। বিদেশিরা সম্ভবত সেই ধাতুর টানেই এখানে এসেছিলেন। তবে বিষয়টি আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।গোপীবল্লভপুর -২ ব্লকের বাসিন্দা সৌমেন মাহাত বলেন, শুনেছি এখানে কিছু সম্প্রদায় ছিল, যারা নদী থেকে সোনার রেনু সংগ্ৰহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। এখন অবশ্য তাদের দেখা যায়না।