Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উত্তর দমদমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের সংগঠন, বাজিমাত গেরুয়া শিবিরের, ভোটব্যাংক ধরে রাখতে সক্ষম সিপিএম

চব্বিশের লোকসভা ভোটেও দমদম উত্তর কেন্দ্রে ‘লিড’ পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু দু’বছরের মধ্যে পরিবর্তনের ঝড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তৃণমূলের যাবতীয় সংগঠন।

উত্তর দমদমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের সংগঠন, বাজিমাত গেরুয়া শিবিরের, ভোটব্যাংক ধরে রাখতে সক্ষম সিপিএম
  • ৬ মে, ২০২৬ ১৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: চব্বিশের লোকসভা ভোটেও দমদম উত্তর কেন্দ্রে ‘লিড’ পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু দু’বছরের মধ্যে পরিবর্তনের ঝড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তৃণমূলের যাবতীয় সংগঠন। 

Advertisement

এবারের ফলাফলে উত্তর দমদম ও নিউ বারাকপুর পুরসভার ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫১টিতেই পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। সিপিএম কমবেশি সাড়ে ৩৮ হাজার ভোট ধরে 
রাখলেও তৃণমূলের ভোটব্যাংকে ধস নামিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বামেরা এখানে তাদের ভোট ধরে রাখতে না পারলে তৃণমূলের বিপর্যয় আরও ভয়াবহ হত। একান্ত আলোচনায় তৃণমূলের পুরানো কর্মীরা বলছেন, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া ছিল। তার সঙ্গে স্থানীয় স্তরের নেতৃত্বের ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যুক্ত হওয়ায় এমন শোচনীয় হার হয়েছে।
দমদম উত্তর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সৌরভ শিকদার পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ২৮৪ ভোট। শতাংশের বিচারে প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৪৬.২৪ শতাংশ। বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৮৮০ ভোট। শতাংশের বিচারে ৩৪.৪২ শতাংশ। বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান ২৬ হাজার ৪০৪ ভোট। আর সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২৮ ভোট অর্থাৎ ১৭.২১ শতাংশ। ২০২১ সালে চন্দ্রিমাদেবী এই কেন্দ্রে ৪৪.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। অর্থাৎ ১০ শতাংশের বেশি ভোট কমেছে তৃণমূলের।
 ২০২৪ সালে তৃণমূল এই কেন্দ্রে ৬ হাজার ৩০২ ভোটে এগিয়েছিল। সেবার সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী ১৮-১৯ শতাংশের মধ্যে ভোট পেয়েছিলেন এই কেন্দ্রে। এবারও সিপিএমের ভোট ১-২ শতাংশ কমলেও বেশিরভাগ ভোট তারা ধরে রেখেছে। কিন্তু ঘাসফুল শিবির হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে।
 উত্তর দমদম পুরসভার ৩৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল শুধুমাত্র ৪ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। এই দু’টি ওয়ার্ড সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ফতুল্লাপুর এলাকার। বাকি সমস্ত জায়গায় হাজার হাজার ভোটে পিছিয়ে তারা। একইভাবে নিউ বারাকপুরের ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে শুধুমাত্র ১৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া বাকি সবক’টি ওয়ার্ডে তৃণমূল বিপুল মার্জিনে হেরেছে। 
উত্তর দমদমের একাধিক তৃণমূল নেতা বলেন, ধর্মীয় মেরুকরণ, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়ার সঙ্গে স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ যোগ হয়েছিল। তাই এই পরিণতি। এছাড়া এসআইআরে নাম বাতিলের অঙ্ক কতটা কাজ করেছে, তাও খতিয়ে দেখছে দলগুলি।
 উত্তর দমদমের তৃণমূলের নেতা বিন্দুমাধব দাস বলেন, ‘দলের কর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি কিছুটা ঠিক হলে আমরা দ্রুত সমস্ত ফলাফল পর্যালোচনা করব।’ বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘তৃণমূলের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ভোট লুট, সিন্ডিকেট রাজে উত্তর দমদমের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। জঙ্গলরাজ খতমের পাশাপাশি মোদির সুশাসনের গ্যারান্টিতে মানুষ ভরসা রেখেছে। এই ফলাফল আসলে মানুষের জয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ