Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গিলের সেভেই জ্বলে রইল মশাল

এডমুন্ড জাল কাঁপাতেই ‘গোওওল’ চিৎকার হাউইয়ের মতো আকাশ ছুঁল। ইস্ট বেঙ্গল জনতার গর্জন তখন টার্পেডোর মতো আছড়ে পড়ছে লোবেরার ডাগ-আউটে। ১১টা লাল-হলুদ জার্সিতে গনগনে বারুদ।

গিলের সেভেই জ্বলে রইল মশাল
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: এডমুন্ড জাল কাঁপাতেই ‘গোওওল’ চিৎকার হাউইয়ের মতো আকাশ ছুঁল। ইস্ট বেঙ্গল জনতার গর্জন তখন টার্পেডোর মতো আছড়ে পড়ছে লোবেরার ডাগ-আউটে। ১১টা লাল-হলুদ জার্সিতে গনগনে বারুদ। চকমকির ঠোকাঠুকিতে আগুন জ্বলার অপেক্ষা। ‘জয় ইস্ট বেঙ্গল’ স্লোগানে কানে তালা লাগার জোগাড়। দিনের পর দিন প্রতিপক্ষের টিপ্পনিতে বিদ্ধ সমর্থকরা জবাব দিতে তৈরি। মাত্র কয়েকটা মিনিট। আর কিছুক্ষণ। তাল কাটল ঠিক তখনই। পেত্রাতোসের কর্নার থেকে ছোঁ মেরে গোল শোধ কামিংসের। ব্যস! মুহূর্তে ফের টেনশন। শিরদাঁড়া জুড়ে তিরতিরে টেনশন। শেষপর্যন্ত হাইভোল্টেজ ডার্বি ড্র। ইস্ট বেঙ্গলে স্বস্তি, মোহন বাগানে আক্ষেপ। বৃহস্পতিবার আইএসএলের যবনিকাপতন। কিশোর ভারতীতে ইস্ট বেঙ্গলের প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশী। কয়েক কিলোমিটার দূরে যুবভারতীতে হাবাস ব্রিগেডের প্রতিপক্ষ দিল্লি। গোলপার্থক্যে মোহন বাগানের (১৩) চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ইস্ট বেঙ্গল (১৮)। অর্থাৎ খেতাব জয়ের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক জায়গায় অস্কারের দল। 

Advertisement

মর্যাদার মহারণে প্রকৃত নায়ক কে? অবশ্যই প্রভসুখন গিল। নাম তো শুনা হি হোগা। ইস্ট বেঙ্গল আইএসএল জিতলে পাঞ্জাবি গোলরক্ষকের বাড়িতে জোড়া ইলিশ পৌঁছে দেওয়া উচিত টিম ম্যানেজমেন্টের। সংযোজিত সময়ে তাঁর অবিশ্বাস্য সেভই ভাসিয়ে রাখল ইস্ট বেঙ্গলকে। গোল হলে ওখানেই খেল খতম। তখন লাল-হলুদ রক্ষণকে ফালাফালা করে দিয়েছে। ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার জোগাড়। ম্যাকলারেনের পুশ গোলে ঢোকার মুখে শরীর ছুড়লেন গিল। শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ কোচের আলিঙ্গনে তিনি। অস্কার হয়তো বলতে চাইলেন ‘ওয়েল ডান মাই বয়।’ আর গিল? স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে কোনোরকমে বললেন, ‘চ্যাম্পিয়নশিপ এখনও অধরা। যুদ্ধ শেষ হয়নি। তবে ট্রফি জিততে আমরা মরিয়া। ফিরে তাকানোর কোনো জায়গা নেই।’
গিলের খুব কাছেই থাকবেন এডমুন্ড। জাল কাঁপিয়ে ইস্ট বেঙ্গলকে লিড দিয়েছিলেন তরুণ উইঙ্গার। আলেজান্দ্রো জমানায় ইস্ট বেঙ্গলে সই করেছিলেন এই মিজো ফুটবলার। ছটফটে বডি ল্যাঙ্গুয়েজের কারণে লাল-হলুদ জনতার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবেন এডমুন্ড। ইন্টার কাশী থেকে লাল-হলুদে প্রত্যাবর্তনের পরও যথেষ্ট উজ্জ্বল তিনি। ম্যাচের পর তাঁর মন্তব্য, ‘লাল কার্ড দেখায় শেষ ম্যাচে আমি খেলতে পারব না। তবে দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ 
ম্যাচের পর যুবভারতীর চার নম্বর গেটের বাইরে লাল-হলুদ সমর্থকদের ভিড়। নাম না জানা অসংখ্য তরুণ। লাল-হলুদ পতাকা স্কার্ফের মতো বাঁধা গলায়। এক থেকে একশো। লাল-হলুদ সমর্থকদের আলোচনায় মিগুয়েলকে নিয়ে স্তুতি। গিল, এডমুন্ড নজর কাড়লেও এদিন ম্যাচের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন মিগুয়েল। প্রথমার্ধে কিছুটা ফ্যাকাসে। তবু প্লেটে করে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন সোয়বার্গকে। দ্বিতীয়ার্ধে এডমুন্ডের গোলের ক্ষেত্রেও তিনিই কারিগর। ব্রাজিলিয়ানের বাঁ পায়ে শেফিল্ড ছুরির ধার। বাংলাদেশ থেকে আসার সময় ইস্ট বেঙ্গলের হাতে মিগুয়েলকে তুলে দিয়েছিলেন অস্কার। একটা আনকাট হিরে দাপিয়ে গেল সবুজ গালিচা। তবে লোবেরা ব্রিগেডকে লড়াইয়ে রাখলেন বিশাল কাইথ। এই মুহূর্তে দেশের সেরা কিপার। টাই-ব্রেকার বাঁচানোয় শিবাজী ব্যানার্জিকে মনে করান তিনি। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতেও বিশালই সেরা। জিতলে সবার কাঁধে চড়েই মাঠ ছাড়তেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ