সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে চলে গিয়েছে বাঘিনিটি। বনদপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমান রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কচুগাঁও বনবিভাগের রাজেন্দ্রপুর আলি বনবস্তি এলাকায় অবস্থান করছে বাঘিনিটি। যদিও বনদপ্তর সাফ জানিয়েছে, অসমে চলে গেলেও এই মুহূর্তে বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে আনা হবে না।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য বনপাল, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ওয়াইল্ড লাইফ বোর্ডের সদস্য সৌমিত্র দাশগুপ্ত বলেন, বক্সা থেকে অসমে চলে যাওয়া বাঘিনিটিকে আপন খেয়ালে তার সাম্রাজ্য বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এখনই বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে বক্সায় ফিরিয়ে আনার কোনো সম্ভবনা নেই। যদি না বাঘিনিটির মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। রাজ্য বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রাকৃতিক কারণেই বাঘিনিটিকে ‘এরিয়া ডমিনেট’ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেজন্যই বাঘিনিটির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হবে না। তবে নজর রাখা হচ্ছে। ফলে বাঘিনিটিকে কচুগাঁও থেকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না।
বনদপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার বাঘিনিটি বর্তমানে অসমের কচুগাঁও বনবিভাগের রাজেন্দ্রপুর আলি বনবস্তি এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। সেখানে রাতের অন্ধকারে বাঘিনিটি গৃহপালিত দুটি শূকর শিকারও করেছে। ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার সময় বাঘিনিটির গলায় উপগ্রহ নিয়ন্ত্রিত রেডিয়ো কলার পরানো হয়েছিল। সেই রেডিয়ো কলার থেকে কচুগাঁওয়ের ওই বনবস্তি থেকে বাঘিনিটির সংকেতও মিলছে। যদিও দিনের আলোয় এখনো সেখানে বাঘিনিটিকে কেউই দেখতে পায়নি। বাঘিনিটির অস্তিত্ব মেলায় রাজেন্দ্রপুর আলি বনবস্তি এলাকাটিতে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অসম বনদপ্তর ওই এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
অসম বনদপ্তরের টাইগার মনিটরিং স্কোয়াড ওই এলাকায় বহিরাগতদের যেতে নিষেধ করেছে। স্থানীয়দেরও গতিবিধির উপরও নিয়ন্ত্রণ চলছে। বাঘিনিটির উপর নজর রাখতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে বনদপ্তরের ৪০ সদস্যের একটি দল রাজেন্দ্রপুর এলাকায় চলে গিয়েছে। সেই দলে রয়েছে ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির বিশেষজ্ঞরা ও বক্সায় সদ্য প্রশিক্ষিত বনকর্মীরা। অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের দক্ষিণ রেঞ্জের রেঞ্জার গণলাল বসুমাতারী বলেন, আমরা দিনের আলোয় বক্সা থেকে আসা বাঘিনিটিকে এখনো দেখতে পাইনি। তবে বাঘিনিটির অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। সে দুটি শূকর খেয়েছে। এলাকায় বাঘিনিটির অসংখ্য ‘পাগমার্ক’ ও ‘স্ক্যাট’ মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে তার উপর।



